লকডাউনে চরম সমস্যায় পড়েছে রায়গঞ্জের হোটেল ব্যবসায়ীরা

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১৯ মে: সমস্ত ব্যবসার সাথে সাথে হোটেল ব্যবসাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রতিবছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয় হোটেলের ব্যবসা। কিন্তু এখন সবই বন্ধ হয়ে আছে। হোটেল ব্যবসা বন্ধ থাকলেও মাসের শেষে বেতন দিতে হচ্ছে কর্মীদের। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীর।

রায়গঞ্জ শহরে ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০-৩৫ টি হোটেল রয়েছে। প্রায় দুই মাস হতে চলল বন্ধ হয়ে আছে হোটেলগুলি। লকডাউন কবে উঠবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে চরম সমস্যায় পরেছে হোটেল মালিকরা। কারন লকডাউন উঠলে হোটেল খোলার পর ব্যবসা কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশ মেনেই হোটেলগুলি বন্ধ রয়েছে। কিছু মালিক কর্মীদের পুরো বেতন দিচ্ছে না, আবার কিছু মালিক কর্মীদের পুরো বেতন দিচ্ছেন। ব্যবসা বন্ধ ঘরের থেকে তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। কবে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা জানা নেই।
সঞ্জীব মিত্র নামে এক হোটেল মালিক জানিয়েছেন, প্রায় দুমাস হতে চলছে হোটেল বন্ধ হয়ে আছে। হোটেল বন্ধ থাকায় কোনও রোজগার হচ্ছে না। তাও কর্মীদের বেতন দিতে হচ্ছে। ওদের তো সংসার আছে। আমাদের যা ক্ষতি হচ্ছে তার বর্ননা দেওয়া যাবে না। সরকার এই সময় না দেখলে চরম সমস্যায় পড়ে যাব। আর কতদিন কর্মীদের বেতন দেব। এর পরে যদি কর্মীদের বেতন দিতে না পারি তাহলে তারা না খেয়ে থাকবে।

অন্যদিকে অমর জয়সওয়াল নামে এক হোটেল কর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে হোটেলে কাজ করে আসছি। এখন হোটেল বন্ধ হয়ে আছে। তাও মালিক বেতন দিচ্ছে। এভাবে লকডাউনের কারনে হোটেল বন্ধ থাকলে মালিক কতদিন বসে বসে বেতন দেবে? এর পর মালিক বেতন বন্ধ করে দিলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। অপরদিকে সুরেশ যাদব নামে অন্য আরএক কর্মী জানিয়েছেন, বাড়িতে ছেলে বৌ আছে। মালিক এখন বেতন দিচ্ছে। কতদিন বেতন দেবে তা বলা যাচ্ছে না৷ পরে যদি মালিক বেতন না দেয় তাহলে ছেলে বৌকে নিয়ে মরতে হব।

এই অবস্থায় সরকার কোনও ব্যবস্থা না করলে হোটেল ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রায় ১২০০ কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here