চিন সীমান্তে শহিদ বীরভূমের রাজেশ

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৭ জুন: জুন মাসেই ছিল বিয়ের পাকা কথা। ছুটিতে এসে নিজেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করবে কথা দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই চিরদিনের মতো ছুটি নিয়ে কফিন বন্দি হয়ে ফিরছেন বীরভূমের বীর সন্তান রাজেশ ওরাং। গ্রামের ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। তবে বদলা নিতে চিন সীমানায় যেতে চান গ্রামের তরুণ যুবকরা।

রাজেশ ওরাং (২৫)। বাড়ি বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার বেলগড়িয়া গ্রামে। ওই সেনা জওয়ান ২০০৫ সালে সেনাবাহিনীতে কাজে যোগদান করেন। প্রথম থেকেই চিন সীমান্তের ভারতের লাদাখে কর্মরত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সেনা অফিসারদের ফোনে ছেলের শহিদ হওয়ার ঘটনা জানতে পারেন। রাজেশের মৃত্যুতে গোটা গ্রাম শোকস্তব্ধ। একই সঙ্গে গর্বিতও। তবে শহিদ ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে মাঝে মধ্যেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন মা মমতা ওরাং। তিনি বলেন, “দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে রাজেশ বড়। ওর খুব ইচ্ছে ছিল রোজগার করে পরিবারের অভাব মেটাবে। এক মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ও বলেছিল ছোট বোনের বিয়ে খুব বড় বাড়িতে দেবে। কিন্তু নিজেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল”।

জেঠু নগেন ওরাং বলেন, “রাজেশ মা বাবাকে খুব ভালো বাসত। সপ্তাহ দুয়েক আগে বোনকে ফোন করে বলেছিল মা বাবাকে ভালোভাবে রাখিস। এখন আমাদের ছুটি নেই। লকডাউনের ফলে যারা ছুটিতে গিয়েছিল তারা ফেরেনি। তাই আমরা এখন বাড়িতে যেতে পারব না”। এক মিনিটের কথার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ হয়নি। তবে জুন মাসের শেষের দিকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। সেই ফিরল। কিন্তু কফিন বন্দি হয়ে।

বাবা সুভাষ ওরাং বলেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে বড় করে তুলেছিলাম। প্রথম থেকেই ছেলের ইচ্ছে ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদান করার। সেই মতো বিহার রেজিমেন্টে কাজে যোগদান করে। কাজে যোগ দেওয়ার পর ছেলেরও অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের নিয়ে। গ্রামে একটি পাকা বাড়ি করে সে। কিন্তু সেই বাড়ি সম্পূর্ণ করে যেতে পারল না। তার আগেই দেশের জন্য শহিদ হতে হল। আমার ছেলের প্রাণের বিনিময়ে চিনকে যোগ্য জবাব দেক ভারত। তবেই ছেলের আত্মা শান্তি পাবে”। তরুণ সেনা জওয়ান রাজেশের মৃত্যুতে তাঁর গ্রামের পাশাপাশি সারা জেলাও শোকস্তব্ধ। গ্রামের যুবকরা অবশ্য রাজেশের মৃত্যুতে বদলা নিয়ে যেতে চাই চিন সীমান্তে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here