বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলে দুয়ারে রেশন পাইলট প্রজেক্ট শুরু, খুশি গ্রাহকরা, সন্তুষ্ট ডিলাররা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ সেপ্টম্বর: দুয়ারের সরকারের পর দুয়ারে রেশন। বুধবার সারা রাজ্যের সঙ্গে দুর্গাপুর, পানাগড়, গলসীতে রেশনের খাদ্য সামগ্রী এবার উপভোক্তাদের বাড়ির দরজায় পৌছানোর পাইলট প্রজেক্ট শুরু হল। দুই বর্ধমান জেলায় এদিন প্রায় ৩০০ এমআরডিলার দুয়ারে রেশন প্রকল্পের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিল গ্রাহকদের বাড়ির দরজায়। বাড়ির সামনে রেশন পেয়ে খুশী গ্রাহকরা। পাশাপাশি এদিন বাড়িতে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরে সন্তুষ্ট এমআরডিলাররা।

   উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দুয়ারে রেশন প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাজ্যজুড়ে পরীক্ষামুলক ভাবে তার পাইলট প্রজেক্ট শুরু হল। এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৫০ জন ডিলার দুয়ারে রেশন প্রকল্পে অংশ নেয়। তার মধ্যে দুর্গাপুর শিল্পশহরে ছিল ৭ টি এলাকায়। দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি, মুচিপাড়া, নব ওয়াড়িয়া, ওয়াড়িয়া, সিটিসেন্টার, গোপালমাঠ, বীরভানপুর এলাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রেশন সামগ্রী বন্টন শুরু হয়। ডিলাররা তাদের নিজের আগাম সুচনা দেওয়া নির্ধারিত এলাকায় গ্রাহকদের পাড়ায় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়। গ্রাহকরা লাইন দিয়ে তাদের রেশন সামগ্রী নেয়। পাইলট প্রজেক্টে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ, প্রশাসন, রেশন দফতরের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপুর দুটি জোনের খাদ্য নিয়ামক আধিকারিক সজল বসাল জানান, “পরীক্ষামুলক ভাবে পাইলট প্রজেক্ট ছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রাহকদের রেশন টোকেন কাটার ব্যবস্থা ছিল।  তারপর তাদের কার্ড অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী বন্টন করা হয়। সাধারন মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে রেশন সামগ্রী নিয়েছে। সার্বিকভাবে সফল হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দুর্গাপুরে আজ থেকে শুরু হল। চলতি সপ্তাহে বৃহঃস্পতি, শুক্রবারও দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে মঙ্গলবার থেকে চারদিন সহ মোট ৮ দিন দেওয়া হবে। যদি কোনও উপভোক্তা সেখানে যদি না পায়, শনি ও রবিবার ডিলারের দোকান থেকে নিতে পারবে।”

অন্যদিকে পুর্ব বর্ধমান জেলায় মোট ২৪৬ জন এমআরডিলার এদিন দুয়ারে রেশন প্রকল্পে শামিল ছিল। সাধারন মানুষ বাড়ির সামনে রেশন পেয়ে খুশী। একই সঙ্গে সাধারন গ্রাহকদের উৎসাহ দেখে সন্তুষ্ট জেলার এমআরডিলাররা। পশ্চিমবঙ্গ এমআরডিলার অ্যাশোসিয়েশনের পুর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক পরেশনাথ হাজরা বলেন, “মানুষের উৎসাহ দেখে আমরা খুশী, সন্তুষ্ট। গ্রাহকরা আনন্দের সঙ্গে তাদের খাদ্য সামগ্রী নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ” মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। এখন পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে আমরা সমস্তরকম সহযোগিতা করব। কয়েক’মাস চলার পর কোনও সমস্যা হলে সরকারকে জানাবো। এখন মুল লক্ষ্য মানুষের কাছে প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া।” 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here