বিহার থেকে ফিরে পুরুলিয়ার ছয় যুবক বাড়ির কাছে জাম গাছে কোয়ারেন্টাইনে

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ৬ মে: বলরামপুরের পর এবার ঝালদা ১ ব্লকে দেখা গেল সেই একই চিত্র। গাছের উপরে কোয়ারেন্টাইনে ঝালদা ১ ব্লকের  দুলমি গ্রামের ছয় জন যুবক। বিহারের সমষ্টি পুর থেকে লাগাতার পাঁচ দিন সাইকেলে করে গ্রামে ফিরে হয়রানির মুখের পড়েন। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ, এমন কি হাতে কোনও টাকাও না থাকায় সমস্যা চরমে উঠে।তাই বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরতে হয় তাদের।

গ্রামবাসী মহেন্দ্রনাথ মাহাতো ও শঙ্কর মাহাতো জানান,  রাতে গ্রামে ফেরেন ওই ছয় যুবক। কিন্তু কিছু বিধি নিষেধ বা যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তাই তাঁদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পাশের জঙ্গলে জামগাছে তাদের থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।  

গাছে কোয়ারেন্টাইনে থাকা নলিনী মাহাতো ও হলধর মাহাতো বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে এসেছি। কারণ আর কোনও পথ ছিল না। বাড়ি থেকে দুই বার খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হলেও তা শেষ হয়ে যায়। তাই সাইকেলে করে বিহারের সমস্তিপুর থেকে এখানে পাঁচদিন পর এসে পৌঁছাই। এসেই ঝালদা থানায় যাই। তারা চিকিৎসা করানোর নামে আমাদের সাইকেল নিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ঝাড়খন্ড পুলিশও এই দিকে পাঠায়। তাই আবার রাতের অন্ধকারে সুবর্ণরেখা নদী দিয়ে গ্রামে ফিরি। কিন্তু গ্রামেও ঢুকতে না দেওয়ায় তাই আমরা ছয়জন গাছের উপরে থাকতে বাধ্য হয়েছি।  এই ভাবেই নিয়মমাফিক ১৪ দিন থাকব।  

এই বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর মাহাতো বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা নানা সমস্যায় ভুগছেন। লকডাউন বাড়ছে তাই তারা বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ছয় যুবক নিয়ম মেনে থানায় গিয়েছে। সেখানে তাঁদের সাইকেল নিয়ে নেওয়া হয়েছে চিকিৎসার নাম করে। তার পর ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। যেখানে কয়েকদিন আগে প্রশাসন ঢাকঢোল পিটিয়ে বলেছিল এই সব শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হবে। এখন তা না করে হয়রানি ও সমস্যার মুখে ফেলে দিচ্ছে প্রশাসন।  তাহলে তারা যাবে কোথায়? তারা কী অপরাধ করেছে ? তাই অবিলম্বে এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশাসনকে ভাবা দরকার।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here