‘দিদি কে বলো’-তে জনগণের কাছে গালাগালি খেলেন বলে মন্তব্য রেজ্জাকের, আরাবুল পড়লেন বিক্ষোভের মুখে

‘দিদি কে বলো’-তে জনগণের কাছে গালাগালি খেলেন বলে মন্তব্য রেজ্জাকের, আরাবুল পড়লেন বিক্ষোভের মুখে

আমাদের ভারত, ভাঙড়, ২১ আগস্ট: ‘দিদিকে বলো’-কর্মসূচিতে জনসংযোগ করতে গিয়ে ভাঙড়ের দুই মেরুর দুই নেতা রেজ্জাক মোল্লা এবং আরাবুল ইসলাম অস্বস্তিতে পড়লেন। দুজনেই এলাকার উন্নয়ন নিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে পড়লেন।

মঙ্গলবার বিকালে ভাঙড়ের বামনঘাটা অঞ্চলের কোঁচপুকুর গ্রামে দলীয় নির্দেশে জনসংযোগ করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা ভাঙড়ের বিধায়ক আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। সেখানে চেয়ার টেবিল পেতে মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শুনতে চান মন্ত্রী সাহেব আর সেটা করতে গিয়েই সাধারণ মানুষ অভিযোগের ঝুড়ি উপুড় করে দেন বর্ষীয়ান নেতার সামনে।

২০১৬ বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে ওই কোঁচপুকুর গ্রামে সভা করেছিলেন রেজ্জাক মোল্লা। নিউটাউন লাগোয়া ওই গ্রামে তিনি বলেছিলেন, শহরের এত কাছেও এখানে কোনও উন্নয়ন নেই, নিউটাউনের মত ঝলমল আলো দিয়ে ভরিয়ে দিতে চাই এই রাস্তা। যদিও তিনবছর পরেও নিউটাউনের ঢিল ছোড়া দূরত্বে আজও দুয়োরানী হয়ে রইল কোঁচপুকুর। জনতার ক্ষোভ আঁচ করে রেজ্জাক বলেন, ‘আপনাদের ক্ষোভ থাকাই স্বাভাবিক। আমি বলেছিলাম ব্যাটে বলে লাগলেই ছয় হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। দেখতেই পাচ্ছেন এখানে আজ অনেকেই আসেনি।‘ মূলত ওই সভায় রেজ্জাক মোল্লার পাশাপাশি ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ, নান্নু হোসেন, আব্দুর রহিম, মিজানুর আলমরা থাকলেও আরাবুল ইসলাম বা ওহিদুল ইসলামকে দেখা যায়নি। তাই এমন মন্তব্য করেন তিনি।‘

পরে রেজ্জাক প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষ যতটা উন্নয়ন চায় ততটা করতে পারিনি তাই এখানে এসে একটু গালি খেলাম। আর জন প্রতিনিধিদের শুধু ফুলের মালা পরলে হবে না মাঝে মাঝে জুতোর মালাও জুটবে, সেটা মনে রেখে এগোতে হবে।‘

এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর পায়ে হেঁটে এলাকা পরিদর্শন করার সময় রেজ্জাক মোল্লার সাথে দেখা হয়ে যায় সিপিএমের এক কর্মীর। তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করার পর কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই সেই সিপিএম কর্মীর বাড়িতে চলে যান তিনি। অপ্রস্তুত একদা সিপিএম কর্মী এমদাদ গাছি চেয়ার এনে বসতে দেন। কথা বলেন দীর্ঘক্ষন। পরে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মোহাসিন গাজীর বাড়িতে যান রেজ্জাক সাহেব। সেখানেই ইলিশ, পমফ্রেট, মুরগির মাংস দিয়ে জমিয়ে নৈশভোজ করেন।

এদিনের এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লার সঙ্গে ছিলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদ সদস্য নান্নু হোসেন, ভাঙড় ১ নং ব্লকের সভাপতি কাইজার আহমেদ, ভাঙড় ২ নং ব্লকের কার্যকারি সভাপতি আব্দুর রহিম সহ জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিজানুর আলম, মহাসিন গাজী প্রমুখ।

মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার সকালে রেজ্জাকের অনুপস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ যখন কোঁচপুকুরে দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সেখান থেকে ফিরে যাচ্ছেন তখন সেখান থেকে কয়েক কিমি দূরে চালতাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলেদানা বাজারে দিদিকে বলো আলাদা কর্মসূচি পালন করলেন ভাঙড়ের বিতর্কিত নেতা আরাবুল ইসলাম। সেখানে অবশ্য এলাকার কিছু মানুষ ওই এলাকার বেহাল রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাতে আরাবুল মেজাজ হারান। আরাবুল অনুগামীরা ওই যুবকদের দিকে তেড়ে যান বলে অভিযোগ। যদিও বিষয়টি মিথ্যা ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আরাবুল ইসলাম। এ বিষয়ে আরাবুল পুত্র হাকিমুল ইসলাম বলেন, “আরাবুল ইসলাম যেখানেই দিদিকে বলো জনসংযোগ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সেখানে হাজার হাজার মানুষ সঙ্গে থাকছে তাঁদের সুখ দুঃখের কথা বলছে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 11 =