রূপঙ্করকে সমর্থন করে বিতর্কের মুখে রূপঙ্কর-গৃহিনী চৈতালি

আমাদের ভারত, ৪ জুন: কেকে-বিতর্কে রূপঙ্করকে সমর্থন করেও বিতর্কের মুখে পড়লেন রূপঙ্কর-গৃহিনী চৈতালি লাহিড়ি। শনিবার সকালে চৈতালি ‘রাত জাগা ভোর’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট লিখেছেন।

চৈতালি কবিতার ভাষায় লিখেছেন,
“স্যোশাল মিডিয়ায় তোমার দেওয়া আ্যড্রনালিন রাশ,
ছোট্ট পরিবারের জীবনে নামিয়ে এনেছে ত্রাস।
দরকার একটা স্মার্টফোন আর মনে একরাশ ঘৃণা,
জীবনের যত না পাওয়ার যন্ত্রণা আর কিছু বাহানা।
তারপর একটা লম্বা ট্রিপ এমন নেশা কোনো মাদকেই হয় না,
উত্তেজনা উত্তেজনা—উফফ দাদা জীবনে কী পাবো না ভুলেছি সে ভাবনা।

এমন একটা বেপরোয়া ঝড়ের মুখে পড়ে,
অসহায় সে পরিবারের টিন এজ মায়ের মনে,
ধরফরিয়ে বুকটা পোড়ে, বরটা বড়ই বোকা দুনিয়াদারিতে
নেহাৎ কাঁচা শিল্প যাপনে মগ্ন থাকা।

এমন কথা কি বলতে হয়, তুমি কি সমাজের হোতা?
কে দিয়েছে মাথার দিব্যি? কেন নড়ল মাথার পোকা?
নিজেকে নিয়ে বাঁচো, নিজের আখের গোছাও ওগো-
মেয়েটার ভবিষ্যৎ আছে, আমার কথাটাও ভাবো।
ভালোই হল চিনতে পেলে বন্ধু এবং বাসা
সময় চেনায় কোনটা সত্যি আর কোনটা মরীচিকা

তোমাদেরও ঘরে জানি আছে এমন বোন ও মা
কেমন হবে তাদের জন্য এমন সমালোচনা?
হুমকী ফোন আর অশ্লীলতা ভাষায় ও ভঙ্গীতে
বিনিদ্র রাত দুমুঠো ভাত মুখেও না রোচে।
তবুও ছিলাম নীরব জানি ওটাই তখন শ্রেয়
যতই ভাবি আমার শহর আমার বড় প্রিয়।
অচেনা আজ ঠেকে কেন চেনা লোকের মুখ
বদলে গেল চোখের ভাষা বেড়িয়ে এলো দাঁত নখ।
ছোট্ট মেয়ে থই পায় না বাবার বিশেষণে,
ভাবছে যতই চোখের পাতা ভিজছে অভিমানে
অবুঝ তাকে কী যে বলি—–
ওরে ভাবিস না রে,
ওসব হল রাগের কথা
ধরতে হয় না ওমন করে।
ঘর সামলাই কাজ সামলাই মুখে হাসি রেখে,
কেউ যেন না বোঝে চোখের কালি রাখি ঢেকে।
সত্যিকারের মানুষ কিছু ঘিরে ছিলেন পাশ
তাদেরও নানান হেনস্তায় কেটেছে দিনরাত।
তাদের বলি তোমাদের আমায় লড়াকু বলেই জানা
এক্ষেত্রে ভুমিকা আমার স্ত্রী ও যশোদা মা।“

প্রতিক্রিয়ায় দেবলীনা ভাদুড়ি লিখেছেন, “হ্যাঁ, এরকম অহংকারী ফ্রাস্টেটেড বর হলে, জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আপনাদের, প্রস্তুত থাকুন। ক্ষমা যাও বা চাইলেন, সেটাও স্ক্রিপ্ট দেখে, উনি আদতেই অনুতপ্ত নন। আমি উনাকে শ্রদ্ধা করতাম, তার কাজের জন্যই। আজ উনার বাংলাকে নিয়ে অভিমান যথাযথ হলেও উনি বাংলাকে অপমান করেছেন, আমাদের নস্টালজিয়াকেও অপমান করেছেন, এটা ক্ষমার অযোগ্য। আর বরকে সাপোর্ট করার আগে, উনার দোষটা ধরান!“

পর্ণা মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, “রূপঙ্করকে শিল্পী ও কম্পোজার হিসাবে সন্মান করি, কিন্তু বলবো যে উনি যদি কিছু বলার আগে একটু ভেবে বলেন অন্তত মহুল এর কথা ভেবে তাহলে এই অশান্তির হাত থেকে দূরে থাকতে পারবেন। দু এক বছর আগে রূপসী বাংলায় লাইভ অনুষ্ঠানে একজন দর্শককে ‘আপনি মৃত্যুবরণ করুন’ বলার জন্য ভীষণ ভাবে ট্রল হয়েছিলেন, সেই অনুষ্ঠান আমি লাইভ দেখেছিলাম, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, উনি হয়তো না ভেবেই এটা বলে ফেলেছিলেন কিন্তু অনেকেরই মনে হয়েছিল এ তার সেলিব্রিটি হবার ঔদ্ধত্য, আর পরিণাম ট্রলিং। এবার কেকের মৃত্যু বোধয় সিচুয়েশনটাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে, কারণ তার ফ্যানরা এটা মেনে নিতে পারছেন না, আর তাদের সব আক্রোশ গিয়ে পড়ছে ওনার ওপর, মহুল এর কথা ভেবে ভীষণ খারাপ লাগছে , শান্তি ফিরুক এই প্রার্থনা, আসলে কথা বলার আগে অনেক ভাবা প্রয়োজন কারণ কথা একবার বেরিয়ে গেলে তা আর কোনও মতেই ফিরিয়ে নেওয়া যায় না আপনারা ভালো থাকুন, শান্তি ফিরুক আপনাদের জীবনে।“

তানিয়া মৈত্র লিখেছেন, “সম্মান কামাতে একটা মানুষের সারা জীবন লেগে যায়। আর সেই সম্মান এক ঝটকায় শেষ হয়ে গেল। শুধু মাত্র ঔদ্ধত্যের কারনে। আপনারা ভালো থাকুন। আর কিছু বলার নেই। পারলে কিছু দিন সোস্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। একটু সময় নিন।“ কৃষ্ণেন্দু বোস লিখেছেন, “নিজের দোষ স্বীকার করুন অন্যদের সমালোচনা আবার কেন। আপনারই তো থামাতে চাইছেন না।“

অনেকে আবার চৈতালিকে সহানুভূতি জানিয়ে তাঁর পাশে থাকার কথাও লিখেছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here