ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পেতে চলেছে শান্তিনিকেতন

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৫ অক্টোবর: ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পেতে চলছে শান্তিনিকেতন। সোমবার শান্তিনিকেতনে পা দিয়েছেন আইসিওএমওএস (ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন মনুমেন্টস অ্যান্ড সাইটস)’র এক প্রতিনিধি দল। যাদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ভর করছে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় শান্তিনিকেতনের নাম ওঠা বা না ওঠা নিয়ে। বিশ্বভারতীর তরফে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমার আবেদন খতিয়ে দেখতেই সোমবার দুপুরে সাত সদস্যের ইউনেস্কোর এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনে পা দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের কয়েকজন আধিকারিকও এসেছেন। এই পরিদর্শনের কথা মাথায় রেখেই তো সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যশালী গৃহ সংরক্ষণে কাজ শুরু করে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ।

উপাসনা গৃহ সংস্কার, ভেঙ্গে পড়া ঘন্টাতলার পুনর্নিমাণ, নানা খোলা জায়গা রেলিং দিয়ে ঘিরে রাঙিয়ে তোলা ইত্যাদি নানান কাজে তোড়জোড় করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এককথায় বিশ্বভারতীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও তার সংরক্ষণকেই প্রতিনিধি দলের সামনে উপস্থাপিত করার লক্ষ্যেই এই ক’মাস মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন দেখার এবার শান্তিনিকেতনের শিকে ছেঁড়ে কি না। নাম ওঠে কি না ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায়। সকলেরই আক্ষেপ রয়েছে, ইউনেস্কো দেশের বহু সৌধ কিংবা বস্তুকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির তালিকায় মনোনয়ন দিলেও এখনও ব্রাত্য থেকে গিয়েছে শান্তিনিকেতন। কেন তা নিয়ে রয়েছে বহু বিতর্ক। যদিও দেশের প্রথম নোবেল জয়ী গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের কর্মভূমি “শান্তিনিকেতন আশ্রম” এর ঐতিহ্য অনেক বেশি। এবার ফের একবার সুযোগ পেয়েছে বিশ্বভারতী। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলের সামনে শান্তিনিকেতনের স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি আদায়ে প্রাণপন চেষ্টাও চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তার জন্য অনেক আগে থেকেই ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের নজরদারিতে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য গৃহ, স্থাপত্য, ভাস্কর্যগুলির সংস্কার হয়েছে। এদিন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা ছাড়াও সেখানে পুরাতত্ব বিভাগের কয়েকজন আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিভিন্ন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী জায়গা ঘুরে দেখেন। বিস্তারিত তথ্য নেন পুরাতত্ব বিভাগের আধিকারিক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। 

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউনেস্কোর এই বিশেষজ্ঞ দল বিশ্বভারতীর ২৩ টি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ও স্থাপত্য ঘুরে দেখবেন এবং তারপর তাদের মতামত পোষন করবেন। এবং সেই মতামতের ভিত্তিতেই মিলবে শান্তিনিকেতন প্রেমী মানুষের বহু প্রতিক্ষিত প্রশ্নের উত্তর।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here