করোনার আতঙ্কে মার খাচ্ছে মরশুমি ব্যবসাও

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৪ মে:
করোনার আতঙ্কে এবার মরশুমি ব্যবসাও মার খাচ্ছে। এই সময় তালের গুড় বিক্রির সময়। কিন্তু তা বিক্রি করতে পারছেন না এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ফেরিওয়ালারা।
এখনো গ্রামবাংলায় প্রচুর তাল গাছ রয়েছে। এই তাল গাছ থেকে গুড় তৈরি হয়। গুড় বিক্রি করে নদিয়ার শিবনিবাসের প্রচুর মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। শিবনিবাসেই প্রায় ২০০-র ওপর তালগাছ আছে। চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ এই তিন মাস তালের মরশুমি ব্যবসা। প্রায় ৫০ থেকে ৬০টা পরিবারের পেট চলে এই তালের রস বিক্রি করেই।

গুড় ব্যবসায়ী বিনয় বিশ্বাস জানান, তিন-চারটে গাছ কাটতে পারলে একটা ছোট পরিবারে ৫ -৬ মাস চলে যায়। আগের বছরও প্রতিদিন ১০০০ টাকার গুড় বেচেছি। ভালো তালের পাটালি ২০০ টাকা করে কিলো। চৈত্র থেকে বৈশাখ এই তিন মাসে রস আর পাটালি থেকে ষাট হাজার টাকা রোজগার করেছি। প্রতিদিন প্রায় ৫ কেজি করে গুড় হয়। দিনে তিনবার গাছে উঠতে হয়। সকালে একবার, দুপুরে একবার, এবং বিকেলে একবার। তিনবার করে রস নামাতে হয়। এরপর সেটাকে জাল দিতে হয়। জাল দিলে খেজুরের যেরকম গুড় হয় ঠিক সেরকম তালের গুড় তৈরি হয়। যাকে আমরা তালের পাটালি বলি। অন্যান্য সময় যখন তালের মরশুম শেষ তখন মাঠে চাষ বাস করি, আম বাগান আছে। এই ভাবেই চলে সারা বছর। কিন্তু এই বছর লকডাউনে সব শেষ। বাজার বন্ধ। তাই বিক্রিও নেই। মানুষের হাতে পয়সা নেই।

গুড় ব্যবসায়ী নৃপতি বিশ্বাস জানান, আগের বছরও গুড়ের ব্যবসা খুব ভালো হয়েছিল। যে টাকা উঠেছিল তাতে সারা বছর খুব ভালোভাবে কেটে গেছে। প্রতিদিন ২০০ টাকা কিলো ভালো গুড় ৭ -৮ কিলো বিক্রি হয়েছিল। এবছর একেবারেই মন্দা। করোনায় সব শেষ করে দিল। আমরা গুড় বিক্রি করতে পারছি না। লকডাউনে সব বন্ধ। জানি না এবছর সংসার কিভাবে চলবে আমাদের। চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ এই তিন মাসেই আমাদের যা বেচাকেনা। এর উপর নির্ভর করে এই পেশায় যারা জড়িত তারা বেঁচে আছে। লকডাউন উঠলেও হাতে থাকবে মাসখানেক সময়। কতটা কি করতে পারব তা ভগবানই জানেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here