‘কন্যাশ্রী’ ফর্ম ২০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি পুরুলিয়ার নিস্তারিণী কলেজের ক্যান্টিন থেকে

11

সাথী প্রামানিক, আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ১৮ নভেম্বর: ‘কন্যাশ্রী’ ফর্ম ছাপিয়ে ২০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে পুরুলিয়ার নিস্তারিণী কলেজের ক্যান্টিন থেকে। বেশ কয়েক দিন ধরেই এই কারবার চলছে। সোমবার ক্যান্টিনে গিয়ে তা পরিষ্কার হয়ে উঠল ভুক্তভোগী ছাত্রীর কথায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের কয়েক জন ছাত্রীর কথায় ‘নোটিশ বোর্ডে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে ক্যান্টিন থেকে ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে জমা দিতে হবে। ক্যান্টিনে গিয়ে ২০ টাকার বিনিময়ে ওই ফর্মটি সংগ্রহ করি।’ কলেজ কর্তৃপক্ষ টাকার কথা নোটিশে উল্লেখ না করায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ছাত্রীরা। এক প্রকার নিরুপায় হয়েই ছাত্রীরা ‘কন্যাশ্রী’  প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় ২০ টাকা দিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করছেন কলেজের ক্যান্টিন থেকে।
   

এদিন দেখা গিয়েছে ক্যান্টিনের দায়িত্ব কর্মচারীর উপর ছেড়ে দিব্যি জেরক্স মেশিনে কন্যাশ্রীর ফর্ম বার করে কুড়ি টাকার বিনিময়ে মালিক দেদার বিক্রি করছে। কলেজের প্রায় ৪০০০ ছাত্রী রয়েছেন। অধিকাংশই  ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। কাজেই ফর্ম বিক্রি করে কলেজের ভিতরেই নতুন কারবার শুরু করেছেন ক্যান্টিন মালিক,অভিযোগ অভিভাবকদের। কলেজের ভিতরে অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে এই অনৈতিক কারবার চলছে বুঝে উঠতে পারছেন না অভিভাবকরা।   

বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন খোদ কলেজের অধ্যক্ষা ইন্দ্রাণী দেব। এদিন বিষয়টি জানতে পেরেই কলেজে কর্মরত ‘কন্যাশ্রী ডিলিং অ্যাসিস্টেন্ট’কে ডেকে পাঠিয়ে বিস্তারিত জানতে চান। অপ্রত্যাশিত অস্বস্তিকর ওই মূহুর্তের মুখোমুখি হতে হয় দুই জনকেই। অধ্যক্ষা বলেন,‘কলেজে কন্যাশ্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তথ্য ঠিক দেওয়ার জন্য ডিলিং অ্যাসিস্টেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে আবেদনকারিদের যেন তা জানিয়ে দেন। তবে, এই ভাবে ফর্ম ছাপিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার একবারেই অজানা ছিল।’
   

মহত্‍ উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের এই প্রকল্প যেখানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খ্যাতি ও সন্মান পেয়েছে সেখানে পুরুলিয়া নিস্তারিণী কলেজের এই ঘটনা কি কালিমালিপ্ত করল? প্রশ্ন অভিভাবকদের।  
 
      

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here