আমফানের ত্রাণ দ্রুত পাঠাতে গিয়ে ঘুরিয়ে দুর্নীতির কথা কবুল মুখ্যমন্ত্রীর! জলস্বপ্ন প্রকল্পের উদ্বোধন

রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ জুলাই: তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যে কোনও কোনও সময়ে বিপদও ঘটে যায়, কার্যত সেটাই যেন সোমবার নবান্নে মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০ মে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও তা নিয়ে দুর্নীতির কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ক্ষতিপূরণ পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন, ‘তাড়াতাড়ি টাকা, ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

আমফান প্রসঙ্গে ত্রাণ বিলি নিয়ে উঠে আসা একাধিক অভিযোগ প্রসঙ্গে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী, টাকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দ্রুততার কারণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। একজন ক্ষতিগ্রস্তও ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবেন না। রাজ্য প্রশাসন খতিয়ে দেখে সকলের জন্য ব্যবস্থা করবে।’

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে৷ এর জন্য ৫৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার৷ এ দিন নবান্নে ‘জলস্বপ্ন’ নামে এই প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর ফলে ২ কোটি পরিবার উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে ৫ বছরের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে৷ এই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে৷ ফলে প্রচুর ছেলে মেয়ের চাকরিরও সুযোগ হবে৷ গ্রামাঞ্চলের ব্যাপক আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়ন হবে। কষ্ট কমে যাবে বাংলার মা-বোনেদের।

প্রসঙ্গত, শহরে জনসংযোগ অটুট থাকলেও গ্রামাঞ্চলে তৃণমূলের জনসংযোগ যে কমে গিয়েছে, তা গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ভোটের ফলাফলে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে তৃণমূল শিবিরে। তাই ২০১৯ সাল থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারও ২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে গ্রামাঞ্চলে মানুষের মন জয়ে এই নতুন প্রকল্প ঘোষণা বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here