সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর আমডাঙা বিধানসভায় পদ্মফোটাতে মরিয়া শহিদুল হক

নীল বণিক, আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর:
সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর আমডাঙ্গাতে এবার পদ্ম চাষে মরিয়া বিজেপির সংখ্যালঘু সেল। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসাকে মাথায় রেখেই উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় বিজেপিকে জেতাতে তলে তলে কাজ শুরু করেছেন সংখ্যালঘু সমাজের একাংশ।

বাম জমানায় আমডাঙা ছিল লাল দুর্গ। ১৯৭৭ সাল থেকে আমডাঙ্গা বিধানসভায় টানা জিতে এসেছেন বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার প্রয়াত হাসিম আব্দুল হালিম। ২০০৬ সালে অবশ্য এখান থেকে জিতেছিলেন আব্দুল সাত্তার। হয়েছিলেন সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী। বরাবর বামেদের দখলে থাকলেও আমডাঙা বিধানসভার উন্নয়নে বিশেষ জোয়ার আসেনি।

পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১১সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রফিকুর রহমান। ফের ২০১৬ সালে আমডাঙ্গা বিধানসভা থেকে আরো একবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তারপরও আমডাঙার সন্ত্রাসের ছবিটা একটুও বদলায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমডাঙা বিধানসভায় সন্ত্রাসের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। যদিও সন্ত্রাসকে প্রতিহত করেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে টেক্কা দিয়েছিল বিজেপি। আর তাতেই ঘুম ছুটে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বর। বোদাই পঞ্চায়েত, তাড়াবেড়িয়া পঞ্চায়েত দখল করে বিরোধীরা। বিজেপির সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় বামেদের নিয়ে বোর্ড গঠনে উদ্যোগী হয়েছিল বিজেপি। তাছাড়া মরিচা পঞ্চায়েত একাই দখলে রেখেছিল বিজেপি। এই তিনটে পঞ্চায়েতে বিজেপিকে বোর্ড গঠন করতে দেওয়া হয়নি। এখনও রোর্ড গঠন করতে পারেনি বিজেপি।

আসন্ন ২০২১ এর নির্বাচনে তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিতে মরিয়া বিজেপি। স্থানীয় আমডাঙার বিজেপি নেতা সহিদুল হক বলেন, বিধানসভার লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। রোজ এই এলাকায় চায়ে পে চর্চা কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ করা হচ্ছে। এই বিধানসভার ৬১% সংখ্যালঘু ভোট। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হলে তার বেশিরভাগটাই আসবে বিজেপির দিকে। সাধারণ সংখ্যালঘু মানুষ এই বিধানসভায় শান্তি চায়। শান্তির লক্ষ্যেই এবার এই এলাকায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা সহিদুল হক।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here