প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত,শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে

প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত,শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে

আমাদের ভারত ডেস্ক,২০ জুলাই: শনিবার দুপুরে প্রয়াত হলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেত্রী শীলা দীক্ষিত। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮১বছর। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন জনিত সমস্যার কারণে দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রীকে আজ সকালে দিল্লির ফোর্টিস এসকর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মারা যান তিনি। বর্তমানে দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ ১৫ বছর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনের দিল্লির উত্তর-পূর্ব আসনে থেকে নির্বাচনে লড়াই করেন কিন্তু বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারির কাছে তিনি হেরে যান। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের কন্নৌজ থেকে তিনি সাংসদ ছিলেন। ওই সময় রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহিলা আয়োগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। রাজীব গান্ধী সরকারে তিনি মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০১৩পর্যন্ত পরপর তিনবার তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ তে তিনি কেরালার রাজ্যপাল ছিলেন।

১৯৯৮ সালের ৩১শে মার্চ পাঞ্জাবের জন্মগ্রহণ করেন তিনি ।পাঞ্জাবের কাপূর্থালা তে তার জন্ম। দিল্লির একটি কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি।এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরণ্ডা হাউস থেকে ইতিহাসে এমএ করেন। উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের আই এ এস আধিকারিক স্বর্গীয় বিনোদ দীক্ষিতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিনোদ দীক্ষিত পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপালও কংগ্রেসের নেতা স্বর্গীয় উমাশঙ্কর দীক্ষিতের ছেলে ছিলেন। শীলা দীক্ষিতের ছেলে সন্দীপ দীক্ষিতও দিল্লির সাংসদ।রাজীব গান্ধীর পর সোনিয়া গান্ধীও শীলা দীক্ষিতকে যথেষ্ট দলের অভ্যন্তরে যথেষ্ট প্রাধান্য দিয়েছেন।১৯৯৮ সালে তাকে দিল্লির প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়।

কংগ্রেস তার শোকবার্তায় লিখেছে “আজীবন কংগ্রেস নেত্রী তিনি। দিল্লির তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি কে কার্যত বদলে দিয়েছিলেন তিনি।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার সঙ্গে শীলা দীক্ষিতের সাক্ষাতের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন,”শীলা দীক্ষিত চলে যাওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। দিল্লির উন্নয়নে তার অবদান অনেক।”

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শোক প্রকাশ করে লিখেছেন ,”শিলা দীক্ষিতের অবদান মানুষ চিরকাল মনে রাখবে। তার চলে যাওয়ার দিল্লির জন্য বড় ক্ষতি হলো।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 8 =