‘জাগরণ দিবস’-এ সংঘের প্রধান  অতিথি, কে এই শিব নাডার

‘জাগরণ দিবস’-এ সংঘের প্রধান  অতিথি, কে এই শিব নাডার

তারক ভট্টাচার্য 

আমাদের ভারত, ৫ অক্টোবর: গতবছর ছিলেন নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী। এবার ‘জাগরণ দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান অতিথি হতে চলেছেন শিব নাডার। প্রতিবছর দশমীর দিনটিকে হিন্দু সমাজের পৌরুষ তথা ‘শক্তির জাগরণ দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। এই দিনটিতে বিশেষ ভাষণ দেন সংঘপ্রধান (সরসংঘচালক)। সেই ভাষণে আগামী একবছর সংঘের কর্মসূচি কী হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত দেওয়া থাকে। এই দিন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে সংঘের তরফ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মঙ্গলবার সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই রেশমবাগ মাঠে (নাগপুর) উপস্থিত থাকতে চলেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি শিব নাডার। সকাল ৭টা ৪০মি. থেকে এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনটাই জানিয়েছেন নাগপুরের ‘মহানগর সংঘচালক’ রাজেশ লোয়া এবং ‘মহানগর সহসংঘচালক’ শ্রীধর গাডগে।  

তবে, শুধু বিজয়া দশমীর দিনই নয়। বিভিন্ন সময়ই সংঘ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। যেমন, গতবছরই ৭ জুন সংঘের তৃতীয় বর্ষের প্রশিক্ষণের শেষ দিন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে নাগপুরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে ভাষণও দিয়েছিলেন প্রথম বাঙালি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে কাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা রীতিমতো বেছেই সিদ্ধান্ত নেয় আরএসএস। ‘জাগরণ দিবস’-এ শিব নাডারকে হঠাৎ কেন আমন্ত্রণ জানানো হল, তা নাডারের সম্পর্কে জানলেই কিছুটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। 

তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলায় জন্ম শিব নাডারের। তাঁর তৈরি শিল্প সংস্থা এইচসিএল টেকনোলজিস লিমিটেড। ডিজিটাইজেশনের যুগে সফটওয়্যার ব্যবসা, সেই সূত্র ধরে আউটসোর্সিং, পরিকাঠামো, প্রকাশন, উৎপাদন, তেল-গ্যাস উত্তোলন, স্বাস্থ্য, বিনোদন-সহ নানাক্ষেত্রে ঘোরাফেরা করে নাডারের মূলধন। যতটা দেশে, সেই ঘোরাফেরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিদেশে। আর ভারত, বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রেই কার্যত আমদানি নির্ভর। ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্য নিয়েও চলছে।

চিনের সাংহাই থেকে জাপানের তোশিবা, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ, সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, পাশাপাশি ইংল্যান্ড, আমেরিকার মতো দেশগুলো তো আছেই। এমনকী, বারমুডার মতো বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জেও ছড়িয়ে রয়েছে নাডারের ব্যবসা। ভারতেও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে তাঁর নামে। ২০০৮ সালে ইউপিএ জমানায় পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন। নিজে খুব একটা প্রচারে আসতে ভালোবাসেন না। কাজটাকেই নিজের প্রচার বলে মনে করেন। কিন্তু, নাডারের প্রভাব এতটাই যে, তাঁর মেয়ে বছর ৩৭-এর রোশনি নাডার মালহোত্রাকে ২০১৭ সালেই বিশ্বের ৫১তম প্রভাবশালী মহিলার তকমা দিয়েছে ফোর্বসের সমীক্ষা। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.