স্কুলের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করা যাবে না, বললেন কৃষিমন্ত্রী

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৬ জুলাই : কোনও অবস্থাতেই স্কুলের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। সোমবার প্রাক্তন ছাত্রদের এমনই আশ্বাসবাণী দিলেন কৃষিমন্ত্রী, তথা রামপুরহাট হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে খেলার মাঠ ব্যবহার করে কোনও মেলা করতে দেওয়া হবে না বলেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শতাব্দী প্রাচীন রামপুরহাট হাইস্কুলের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল পরিচালন সমিতি। সেই মতো দুই ধারের প্রাচীর ভেঙ্গে স্কুলের জায়গাকে সংকীর্ণ করে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। কেটে ফেলা হয় স্কুলের ভিতরে থাকা বেশ কয়েকটি প্রাচীন গাছ। প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল। প্রশাসনের সর্বস্তরে ডেপুটেশন দেয় তারা। এরপরেই প্রশাসন এবং কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার জনমত গড়ে তুলতে সংগঠিত হতে শুরু করে প্রাক্তন ছাত্ররা। রবিবার প্রাক্তনীরা মিলিত হয়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে। তার প্রথম ধাপ হিসাবে সোমবার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দিতে যায় প্রাক্তনীরা। তার আগে কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দেখা করে দোকান ঘর বন্ধের আবেদন জানানো হয়।

আশিসবাবু বলেন, “কোনও অবস্থাতেই স্কুলের জায়গায় দোকান ঘর করতে দেওয়া হবে না। আমি প্রধান শিক্ষককে বলেছি তাদের অবস্থান নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। স্কুলের প্রাচীর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। খেলার মাঠে কোনও বাণিজ্যিক মেলা, পুজো করতে দেওয়া যাবে না। ওই মাঠ সংস্কার করে খেলাধুলো এবং শরীর চর্চার জন্য খুলে দিতে হবে। প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি দেখার অনুরোধ করা হয়েছে”।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অমল মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি লকডাউনের কারণে রামপুরহাটে যেতে পারছি না। যেতে পারলে স্কুলের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের প্রতিবাদ জানাতাম। তবে যারা রামপুরহাটে আছেন তারা একত্রিত হয়ে এই দোকানঘর নির্মাণের কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। যাতে পরবর্তীকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ দোকান করার স্পর্ধা না দেখাতে পারে”।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র অমিতাভ হালদার, মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা চাই স্কুলের প্রাচীর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। খেলার মাঠ যেন মেলার মাঠে পরিণত না হয়। সেই সঙ্গে স্কুলের সামনে থেকে পান, বিড়ি, গুটখা, লটারির দোকান তুলে দেওয়া হোক”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here