অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় মাকে বাইকে বসিয়ে নিজের সঙ্গে গামছায় বেঁধে পাঁশকুড়ার করোনা হাসপাতালে নিয়ে গেল ছেলে

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ জুলাই : মায়ের করোনার উপসর্গ। মিলল না অ্যাম্বুলেন্স। কোনও প্রাইভেট গাড়িও নিয়ে যেতে রাজি নয়। নিজের সঙ্গে গামছায় বেঁধে মাকে বাইকে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেল ছেলে। বাড়ির বড় দাদা ও বৌদি করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে পাঁশকুড়ার বড়মা করোনা হাসপাতলে। বাড়ির সকলের লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। কিন্তু মায়ের কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর রয়েছে। সেই জন্য স্থানীয় আশা কর্মীর সাহায্য চেয়েছিলেন কোলাঘাটের ছাতিন দা গ্রামের এই যুবক। স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। সেই মত শনিবার ১১ জুলাই কোলাঘাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মাকে নিয়ে বাড়ির ছোট ছেলে চিকিৎসার জন্য যায়। কিন্তু ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তার করোনার উপসর্গ রয়েছে। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক।

করোনার উপসর্গ থাকায় কোনও গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি নয়। মেলেনি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। কোলাঘাটের বিডিওর দ্বারস্থ হয় এই পরিবার। পরিবারের অভিযোগ যে বিডিও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ে বৃদ্ধা মহিলা। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির ছোট ছেলে মায়ের চিকিৎসার জন্য ঝুঁকি নিয়ে মোটর বাইকে মাকে বসিয়ে গামছা দিয়ে নিজের সঙ্গে বেঁধে পাঁশকুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সরকারি গাফিলতি চরম নিদর্শন দেখল কোলাঘাটের এলাকাবাসী।

যদিও কোলাঘাটের বিডিও মদনমোহন মণ্ডল জানান যে, ব্লকের হাতে যে অ্যাম্বুলেন্স ছিল সেটা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ডাইভার মারা গিয়েছে। আর যেই গাড়িটি ছিল সেটা রোগী বহন করছে। কিছুক্ষণ আমি অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু ওরা ধৈর্য হারিয়ে নিজেরাই নিয়ে চলে যায়। তবে এ ধরনের ঘটনা আর হবে না। আমরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করছি যাতে রোগীরা দ্রুত পরিষেবা পায়।

এলাকার মানুষের প্রশ্ন, তাহলে কি ব্লক প্রশাসন আগে থেকে সচেতন নয়। এত বড় ব্লকে কেন একটি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। প্রতিদিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে কোলাঘাট ব্লক এলাকায়। ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র কেন তার মা’কে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মোটর বাইকে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারমিশন দেবে। বা কেন আটকালো না সেই মুহূর্তে। এই প্রশ্ন তুলেছে আক্রান্তের বাড়ির আত্মীয়-পরিজন। এই মুহূর্তে মা ও ছেলে দুজনেই পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here