পুরুলিয়ায় ‘ঊষরমুক্তি প্রকল্পে’র কাজ পরিদর্শন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কমিশনারের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৬ জুন: পুরুলিয়ার হুড়ায় ঊষরমুক্তি প্রকল্পের কাজ সরজমিনে পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জাতীয় গ্রামীন কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প বিভাগের কমিশনার দিব্যেন্দু সরকার। রুক্ষ মাটিতে জলের ব্যবস্থা করে সেখানে সারা বছর চাষের উপযোগী করে তুলতে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক এলাকার সঙ্গে সঙ্গে পুরুলিয়া জেলার হুড়া ব্লক এলাকাতেও শুরু হয়েছে ঊষরমুক্তি প্রকল্প। আর এবার সেই ঊষরমুক্তি প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কমিশনার। হুড়া ব্লকের মাগুড়িয়া-লালপুর গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাহাড়িগোড়াতে জোরকদমে চলা এই ঊষরমুক্তি প্রকল্পের কাজ ঠিক মতো চলছে কি না এদিন সেখানে গিয়ে তা সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখেন কমিশনার দিব্যেন্দু সরকার।

এদিন পরিদর্শন স্থলে কিছু চারা গাছও রোপন করেন তিনি। এদিনের এই ঊষরমুক্তি প্রকল্পের পরিদর্শনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, হুড়া ব্লকের বিডিও মনোজিত নস্কর সহ জয়েন্ট বিডিও অমল ঘোষাল, হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রসেনজিত মাহাতো, স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান, নির্মাণ সহায়কেরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

২০১৭ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে ঊষর মুক্তি প্রকল্প শুরু হয়৷ এই সব শুখা জেলার ৫৫টি ব্লক এবং ৪৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে প্রকল্পের অধীনে আনা হয়৷ গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। আর পাঁচটা সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পের সঙ্গে এর ফারাকও রয়েছে৷ ঊষর মুক্তি প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হল, ধ্বংস প্রান্ত বনভূমিতে সবুজ ফেরানো এবং পতিতভূমিতে জঙ্গল তৈরি৷ নদী, সমুদ্র এবং জলাশয়ের পাড়ে গাছ লাগানোতেও জোর দেওয়া হয়৷ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিতে বনজ উদ্ভিদ চাষেরও পরিকল্পনা হয়েছে৷ সেখানে কৃষিভিত্তিক বনসৃজন হয়৷ মাটি পরীক্ষা করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই চলবে কৃত্রিম উপায়ে জঙ্গল তৈরির কাজ৷ প্রাথমিক পরিকল্পনায় একশো দিনের কাজের প্রকল্প থেকে টাকার জোগান দেওয়া হবে৷ রাজ্য সরকারও খরচের একটা অংশ বহন করছে৷ প্রতি বছর ৪০০ কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে৷ তিন বছর ধরে টাকা দেওয়া হয়৷ প্রকল্প দেখভালের জন্য প্রতিটি জেলায় এক জন করে সরকারি আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্য স্তরেও এক জন শীর্ষ আমলা দায়িত্বে রয়েছেন৷ 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here