পুজোয় সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

পুজোয় সুস্থ থাকার চাবিকাঠি

ডাঃ প্রশান্ত কুমার ঝরিয়াৎ

আমাদের ভারত, ১৫ সেপ্টেম্বর : মাঠে মাঠে কাশ ফুলের সারি জানান দিচ্ছে মায়ের আর আসতে দেরী নেই ।ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে আনন্দে মেতে উঠেছে মায়ের আগমনী সুরে ।পুরো একটা বছরের অপেক্ষার শেষে মা আসছেন তাও আবার মাত্র কয়েকটি দিনের জন্য,তাই এই কয়েকটি দিনেই আমরা আমাদের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ভুলে মাকে বরন করে নেব। মাকে জানাব, মা সকলকে ভালো রেখ মা, আনন্দময়ী মা জগৎ সংসার আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোল। এই কয় দিনের পুজোর ছুটি উপভোগ করার জন্য আপামর বাঙালী বহু আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রাখে। কেউ দূর দেশ ভ্রমণের জন্য রেলের টিকিট বুকিং করে রাখেন, কেউবা আবার এবার কোথায় কোথায় ঠাকুর দেখতে যাবেন তার তালিকা বানাতে বসেন। খাদ্য রসিকরা পরিকল্পনা করে ফেলেন পুজোর চারদিন কী কী স্পেশাল মেনু হবে। কিন্তু এত কিছুর পরেও যদি শরীর সুস্থ না থাকে তবে সব আনন্দই মাটি। তাই আসুন আজ আমরা দেখি যাতে ঐ পুজোর ছুটির কটা দিন সুস্থ থাকতে পারি।

প্রথমেই আসি যারা এবারের পুজোয় বাইরে বেড়াতে যাচ্ছেন তাদের কথায়। পাহাড়ে যারা যাবেন তাঁরা উপকারী বন্ধু কোকা কে ভুলবেন না। উচ্চতা জনিত শ্বাসকষ্টে কোকা -৬ এর কয়েক মাত্রা আপনাকে উপশম দিতে পারে। এছাড়া, কেটে গেলে রক্ত বন্ধ করতে হলে ক্যালেন্ডুলা মাদার বাহ্যিক প্রয়োগ করলে অব্যর্থ ফল পাবেন। আঘাত লেগে ব্যথা হলে আর্নিকা যে অব্যর্থ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

পুজোয় একটু গুরুপাক খেয়ে বদহজম হলে নাক্সভোম -৩০ র এক দুই মাত্রা খেলেই উপকার পাবেন।তৈলাক্ত খাবার খেয়ে বদহজম হলে পালসেটিলা কে স্মরণ করতে হবে।অম্বল হয়ে গলা-বুক জ্বালা করলে ক্যাপসিকাম ঔষধটি অত্যন্ত উপকারী।

সারা রাত জেগে ঠাকুর দেখে শরীরে একটা অস্বস্তি ভাব, সব সময় ঝিমুনি, এমতাবস্থায় ককুলাস আপনাকে নিরাশ করবে না। যাদের গাড়িতে চড়লেই বমি হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ঔষধটি অত্যন্ত কার্যকরী।

অনেক সময় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই সময় ঠান্ডা গরমের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে সর্দি জ্বর বাঁধিয়ে বসে। এই অবস্থায় প্রথমেই একোনাইটের কয়েক মাত্রা প্রয়োগ করতে পারলে অত্যন্ত ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে, বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে এই ভয়ে অযথা বেশি গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ঠিক নয়, এতে ঘাম বসে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সুগারের রোগীরা এই সময় তাদের নিয়মিত ওষুধগুলি খেতে যেন ভুলবেন না। লোভে পড়ে একটা মিষ্টি খেয়ে ফেলেছেন, তাহলে আজ আর গাড়িতে চড়ে নয় হেঁটে হেঁটেই ঠাকুর দেখতে বেরোন।

পুজোয় অনেক ডাক্তারবাবুদের চেম্বার বন্ধ থাকে,তাই বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকলে আপনার ডাক্তার
বাবুর সঙ্গে আলোচনা করে কিছু জরুরী ওষুধ বাড়িতে এনে রাখুন। আপনার নিকটবর্তী হাসপাতাল এবং এম্বুলেন্সের নম্বর হাতের কাছে মজুত রাখুন।

পুজোর দিনগুলোয় সবাই ভালো থাকুন, আনন্দে মেতে উঠুন, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে আসুন সবাই মাতৃবন্দনায় মনোনিবেশ করি।
“অসতো মা সদগময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মাহমৃতং গময়।”

Related Articles

3 Comments

  • Amrit Rudra Paul , September 15, 2019 @ 4:59 PM

    Very much helpful pre pujo content..

  • Chandan Mondol , September 15, 2019 @ 8:23 PM

    Very much in formative, particularly at the time of puja vacation.Thank you doctorbabu.

  • Chandan Mondol , September 15, 2019 @ 8:26 PM

    Very much informative.Thank you doctor babu.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.