পুলিশ-প্রশাসনের দলীয় কর্মীদের মতো আচরণ আর রিগিং বন্ধ হোক, ট্যুইটে তোপ রাজ্যপালের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১০ জুন: মহামারী করোনা, আমফান-সহ আরও একাধিক সমস্যায় জেরবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত সরকারের নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশে বিদ্রোহ। এর জন্য ১৩ জন কনস্টেবলকে বদলি করা হলেও তা নিয়েও মঙ্গলবার রাতে ফের বিদ্রোহের আগুন ছড়ায় কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে। আর প্রশাসনের এই অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে ফের খোঁচা মারতে বিন্দুমাত্র দেরি করলেন না রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

বুধবারের ট্যুইটে করোনা প্রসঙ্গকে সরিয়ে এবার পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যের কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, শাসক দলের কর্মীর মত পুলিশ ও প্রশাসন আচরণ করছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা উদ্বেগজনক। শাসক দলের কর্মীর মতো তারা একদম সামনের সারিতে এসে আচরণ করছে। এটা অবিলম্বে শেষ হওয়া দরকার। এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এটার জন্য আগামী দিনে দাম দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং রিগিং বন্ধ হলে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বাঁচতে পারে। গণতন্ত্র ছাড়া স্বাধীনতা থাকে না। এটা আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব সবার স্বাধীনতা রক্ষা করা। চুপচাপ/সাইন্টিফিক রিগিং হতাশাজনক। ”

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যপাল একাধিকবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন রাজ্যের শাসক দলের হয়ে কাজ করছে, সে নিয়ে একাধিকবার টুইট করে রাজ্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। রাজ্যে লকডাউন সফল করার জন্য আধা সেনাবাহিনী মোতায়নের পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন রাজ্যপাল।

উল্লেখ্য, বুধবারই ভার্চুয়াল সভা থেকে প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২১ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। তার আগেই বিভিন্ন অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার প্রশ্ন উঠেছে পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই কি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সুকৌশলে ফের রাজ্যকে বিদ্ধ করলেন রাজ্যপাল? এমনিতেই বঙ্গ রাজনীতির বাজারে প্রচলিত কথা আছে, এ রাজ্যে বঙ্গ বিজেপি দলের থেকে অনেক বেশি সক্রিয় রাজ্যপালের ট্যুইট-বাণ। এবারও পরিস্থিতি বুঝে তিনি সেটাই করেছেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here