বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডুবে হিলি গ্রামীণ হাসপাতাল, “সরকারি টাকার অপচয় বন্ধ করে পশু হাসপাতাল করে দেওয়া হোক”, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বাসিন্দাদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৪ জুন: বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ডুবে হিলি গ্রামীণ হাসপাতাল। নেই জেনারেটর, নেই অ্যাম্বুলেন্স, বিকল এক্সরে মেশিনও। সামান্য কিছুতেই ২৫ কিলোমিটার দূরে রোগীদের স্থানান্তর করবার অভিযোগ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন হিলির বাসিন্দারা। “সরকারের টাকা অপচয় না করে পশু হাসপাতাল বানিয়ে দেওয়া হোক হাসপাতালটিকে” সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট স্থানীয় যুবকদের। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস সভাধিপতির।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা হিলি। যেখান থেকে জেলার সদর শহর বালুরঘাটের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। সে কারণেই সীমান্ত এলাকার মানুষের সুবিধার্থে হিলিতে তৈরি করা হয়েছিল একটি গ্রামীণ হাসপাতাল। এক সময় সেই হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ডাক্তার, মহিলাদের জন্য আলাদা ডাক্তার ছাড়াও বিভিন্ন অপারেশন, এক্স-রে সব পরিষেবায় পেতেন রোগীরা। কিন্তু বর্তমানে সেই গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এক ভয়ঙ্কর অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। দিনের আলোতে সামান্য অসুখ বা অল্প হাত-পা কাটার চিকিৎসা করাতে গেলেই ২৫ কিলোমিটার দূরে বালুরঘাট হাসপাতালে রোগীকে রেফার করে দেন চিকিৎসকরা। যে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সামান্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও হাসপাতালে নেই বলেও অভিযোগ। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বকেয়া থাকায় বছর খানেক আগে সেই পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

রাতের বেলা অনেকে ভয়ে বা আতঙ্কেই হাসপাতালে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে হাসপাতলে কোনো জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারে ডুবে থাকে গোটা গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের। এখানেই শেষ নয়, লোডশেডিং হলে অন্ধকারেই থাকতে হয় হাসপাতালের রোগীদের। প্রয়োজনে মোমবাতি কিনে আনতে হয় রোগীর বাড়ির লোকেদের বলেও অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত শহরে এমন বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠলেও কোনো হেলদোল নেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ঘটনা নিয়ে এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কটুক্তি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, সরকারি টাকা অপচয় না করে পশু চিকিৎসালয় করে দেওয়া হোক হাসপাতালটিকে।

কৃষ্ণা মালী নামে এক মহিলা বলেন, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হিলি হাসপাতালে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সের টাকা পাননি তিনি। বারবার দরবার করেও মেলেনি সেই টাকা। যার কারণে প্রায় একবছর ধরে বন্ধ রেখেছেন অ্যাম্বুলেন্সটি।

এলাকার বাসিন্দা দিলীপ চৌধুরী, সঞ্জিত সরকার, দীপঙ্কর চৌধুরী ও শুভঙ্কর দে রা বলেন, কোন পরিষেবা নেই এই হাসপাতালটিতে। রোগী আসলেই তারা সাথে সাথে স্থানান্তর করে দেন। সঠিক চিকিৎসক নেই, অ্যাম্বুলেন্স নেই, জেনারেটার নেই, এক্স রে হয় না। রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকে গোটা হাসপাতাল চত্বর। যা নিয়ে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা চান হাসপাতালের সঠিক পরিষেবা।

এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বিপ্লব দিয়ে বলেন, একসময় সব পরিষেবা পাওয়া যেত এই হাসপাতালে। এখন আর কোনো চিকিৎসাই হয় না। রোগী আসলেই স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। জেনারেটর না থাকায় মাঝেমধ্যে রোগীদের অন্ধকারেই থাকতে হয় হাসপাতালে। এসবের দিকে কারো নজরও নেই।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় বলেন, খবরটি তিনি শুনেছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here