ভারত বনধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেশজুড়ে

আমাদের ভারত,৮ জানুয়ারি:সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর বিরোধিতা,ক্রমবর্ধমান আর্থিক মন্দা, বেকারত্ব, রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধ সহ একগুচ্ছ বিষয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশজুড়ে বুধবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন গুলি। শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে কৃষি সংগঠনগুলিও। দেশজুড়ে এদিনের বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নজরে এসেছে। বেশকিছু জায়গায় ব্যাহত হয়েছে যানচলাচল। ব্যহত হয়েছে ব্যাঙ্ক পরিষেবা।

বন্ধের প্রভাব পড়েছে অসমে। সরকারি দপ্তর খোলা থাকলেও। বন্ধ ছিল বাজার দোকান। ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। তবে বনধের দিন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল অসম।

সড়ক পরিবহণকে বেসরকারিকরণ করে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটে সামিল হয় হরিয়ানায় পরিবহন কর্মীরা। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে সেখানে।

লুধিয়ানা ও পাঞ্জাবেও বেশ কয়েকটি জায়গায় ধর্মঘটিদের বাধায় ব্যাহত হয়েছে যানচলাচল। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে একটি ছাত্র সংগঠন।

চন্ডিগড়ের সরকারি ব্যাংক, পরিবহন এবং পোস্ট অফিসের কর্মীরা বনধে সামিল হয়েছেন। সামিল হয়েছেন একাধিক কৃষক সংগঠনও। জলন্ধরে কারখানায় যাওয়ার পথে একদল শ্রমিককে আন্দোলনকারীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ এসেছে।

বনধের কারণে রাজস্থানে ব্যাহত হয়েছে ব্যাংক পরিষেবা। পরিবহন কর্মীদের বড় অংশশ বনধে যোগ দিয়েছে যার ফলে যানচলাচলের প্রভাব পড়েছে। জয়পুরে এলআইসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ভূপালের বনধে সামিল হয়েছেন ব্যাংক কর্মীরা।

কোচিতে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। শুনশান রাস্তাঘাট। মেট্রো স্টেশনের যাত্রী প্রায় ছিলনখ বললেই চলে।

কেরলের সর্বত্রই বনধের প্রভাব পড়েছে। বন্ধ ছিল সমস্ত দোকানপাট, দপ্তর।কেরলে পর্যটন বিভাগ বিভাগকে বনধ থেকে ছাড় দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

মুম্বাইতে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

কর্নাটকের মাদিকেরিতে সরকারি বাস লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি করেছে আন্দোলনকারীরা বলে অভিযোগ।

উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর ধর্মঘটিরা রাস্তা অবরোধকরে।

মহারাষ্ট্রের নাসিক কোলাপুর সঙ্গে একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বনধের ইস্যু গুলিকে সমর্থন করেন। তবে তার জন্য ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হবে না বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল রেলওয়ে মজদুর সংঘ।

অন্যদিকে তামিলনাড়ু চেন্নাইতে বনধের প্রভাব পড়েছে। একদিকে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সকাল থেকে রাস্তায় নেমেছিল মিছিল করেছে পথ অবরোধ করেছে। পুলিশের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের সংঘর্ষ বেধেছে একাধিক জায়গায়।

অন্যদিকে বামপন্থীদের ডাকা বনধে সাড়া পড়েছে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে দলীয় দফতরে গেছেন তিনি এদিন।

বনধের সাড়া পড়েছে আমাদের রাজ্যেও। সকাল থেকেই ধর্মঘটিরা রাস্তায় ছিল এদিন। জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে শহরের মোড়ে মোড়ে অবরোধ হয়েছে। বহু জায়গায় ট্রেন অবরোধ হয়েছে। ফলে নাকাল হয়েছেন রেলযাত্রীরা। এবারের বনধে প্রভাব পড়েছে মেট্রো রেল পরিষেবাতেও। বহু জায়গায় সরকারি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। হুমকি দিয়ে দোকান বন্ধ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতীর সামনে পিকেটিং করে বনধ সমর্থনকারীর ছাত্ররা। যাদবপুরে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা হয়। গ্রেফতার হয়েছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সহ একাধিক বাম কর্মী। মালদায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বনধকে কেন্দ্র করে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে বলে অভিযোগ। ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যহত হয়েছে একাধিক জায়গায়। শিল্পাঞ্চলে কারখানাগুলিতে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়। বনধের ভালো প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের একাধিক শহরেও।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here