বাইক পাচার চক্রের তদন্তে সাফল্য বাঁকুড়া জেলা পুলিশের, মূল চাঁই গ্রেফতার

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৮ অক্টোবর: বাইক পাচার চক্র সহ তার মূল পান্ডাকে গ্ৰেপ্তার করে বড়সড় সাফল্য মিলল বাঁকুড়া জেলা পুলিশের। এবার এক বাইক পাচার চক্রের চাঁইকে গ্রফতার করে প্রথমে ২৩ টি এবং বুধবার আরও একটি সব মিলিয়ে মোট ২৪টি বাইক উদ্ধার হয়েছে।

পুজোর আগে অক্টোবরের ৫ তারিখে মেজিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে বাঁকুড়া পুলিশ একটি আন্তঃরাজ্য ছিনতাই চক্রকে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রটির সন্ধানে তদন্ত চালাতে গিয়ে উঠে আসে আরও একটি ছিনতাই চক্রের সক্রিয় থাকার কথা। দ্বিতীয় চক্রটির কিংপিন বছর তিরিশের বিধান ঘোষ। গত রবিবার তাকে বাঁকুড়া সদর থানার করণজোড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আরও একটি আন্তঃরাজ্য বাইক পাচার চক্রের হদিশ পায় জেলা পুলিশ। বুধবার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিধান ঘোষকে গ্রেফতার করে ২৪ টি বাইক উদ্ধার হয়েছে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। এর আগেও বাইক ও চার চাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সাইবারক্রাইম ও মোবাইল সিম জালিয়াতির চক্রটিকে ধরার পর জেলা পুলিশের উদ্যম বেড়ে যায়। পুজোর ঠিক কয়েকদিন আগে মেজিয়া থানার পুলিশ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের রানীগঞ্জ এলাকা থেকে নাসিম আনসারী, সেলিম শেখ, মোহাম্মদ সানি, আবিদ সেখ ও গোর্খা কুরেশি এবং বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকে আসলাম শেখ নামে ৬ ছিনতাইবাজকে গ্রেফতার করে ১৪ টি টোটো ও ২১ টি বাইক উদ্ধার করেছিল। ঘটনার ৩ সপ্তাহের মধ্যেই ফের বড়সড় সাফল্য পেল বাঁকুড়া পুলিশের তদন্তকারী দল। ওই দুষ্কৃতীরা এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার।

তিনি বলেন, ওই চক্রটির সন্ধান করতে গিয়েই আমাদের নজরে আসে আরও একটি ছিনতাই ও পাচার চক্র জেলায় সক্রিয় রয়েছে বলে। জেলা পুলিশ তদন্তে নেমে বিধান ঘোষকে গ্রেফতার করতেই ২৩ টি বাইক উদ্ধার হয়েছে কয়েকদিন আগেই। এদিনও সকালে একটি বাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ বলে জানান ধৃতিমান সরকার। এই ২৪ টি বাইকের মধ্যে বাঁকুড়া সদর থানার ১৭ টি বাইক, ৪ টি ছাতনা থানা ও ৩ টি বেলিয়াতোড় থানা এলাকা থেকে ছিনতাই করা হয়েছিল। এই বিধান ঘোষ মূলত চোরাই বাইকের এজেন্ট। বিভিন্ন ছিনতাই গ্যাং বা ছিনতাইবাজ বাইক চুরি করে এনে বিধান ঘোষের কাছে বিক্রি করতো। বিধান ঘোষ সেই বাইক অন্যত্র পাচার করতো। বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খন্ড ও বিহার এলাকাতেও তদন্ত চালাচ্ছে। এরপর আরও বড়সড় চক্রের হদিশ পাওয়া যাবে এমনই ইঙ্গিত দেন পুলিশ সুপার।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here