বিএসএফের বিরুদ্ধে নয়, রাজ্যে বাস করা বা করিডোর বানানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ুন, মমতাকে তোপ সুকান্তের

আমাদের ভারত, ২২ নভেম্বর: সোমবার চার দিনের সফরে আজ দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে তিনি বলেন, রাজ্যে বিএসএফের পরিধি বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিএসএফের বিরুদ্ধে না বলে রাজ্যে এসে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করুন।

আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বিএসএফ নিয়ে মমতাকে তাঁর মন্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত বলেন, “বিএসএফের এলাকা বৃদ্ধি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এত ভীত তা বুঝতে পারছি না? বর্তমানে বিএসএফ রাজ্যের সীমানা থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে কাজ করতে পারে। কয়েকটি রাজ্যে এক্তিয়ার ছিল ৮০ কিলোমিটার। বিএসএফ বাহিনীর এক্তিয়ার কোথাও কমানো হয়েছে। সব রাজ্যে আগে বিএসএফের এক্তিয়ার আরও বেশি ছিল, সেই সব রাজ্য এতে আপত্তি করেননি। তাহলে বাংলার আপত্তি কিসের?”

বিজেপি রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, বিএসএফ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। গ্রেপ্তার করলে তাকে রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মমতা কেন এত ভয় পাচ্ছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিএসএফের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে বাংলাদেশ থেকে আসা জেএমবি জঙ্গি যারা এই রাজ্যে বসবাস করছে বা করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে পশ্চিমবঙ্গকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। গত কয়েক দিনের খবর যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছে। এরা বাংলার কেউ নয়। বাংলাদেশ থেকে এসে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধরা পড়ছে।

তৃণমূলের আন্দোলনের পদ্ধতি নিয়েও সরব হন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করার জন্য বঙ্গ বিজেপি যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের দিশা দেখাবেন। তবে তৃণমূলের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বিরুদ্ধে আমরা লড়তে জানি। বিজেপি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা তৃণমূল ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে যাবো না।”

অন্যদিকে থানায় কালীমন্দির তৈরিতে বাধার অভিযোগ তুলে সরব হন সুকান্তবাবু। তিনি বলেন, “৩৪ বছরের বাম আমলে কমিউনিস্ট জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়েও থানায় কালীপুজো হত। কালী মন্দির ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা এক ধর্মীয় সংকীর্ণতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে থানায় কালী মন্দির থাকা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। মগরাহাট থানায় এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ থানায় কালী মন্দির তৈরি নিয়ে সেখানকার বিডিওর কাছে আপত্তি জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় আপত্তির ভাষা খুব সন্দেহজনক। সেখানে বলা হয়েছে আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। কিন্তু প্রয়োজনের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে বর্তমানে তৃণমূলের শাসনের বাংলার পুরনো সংস্কৃতি আর নেই। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করছি। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলার সংস্কৃতি এখন হুমকির মুখে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here