হবিবপুর, মানিকচক, ফারাক্কা- পরপর ধর্ষণের ঘটনা, মহিলা জনপ্রতিনিধিদের হুমকি, এটাই কি রাজ্যের নারী সুরক্ষা ?তোপ শুভেন্দুর

আমাদের ভারত, ১৫ জুন: ক্ষমতায় এলে জুন মাস থেকে রাজ্যের মহিলাদের পকেটমানি দেবে বলেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পুরণ হয়নি। উল্টে হবিবপুর, মানিকচক, ফারক্কা, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিশুকন্যা, মহিলাদের উপর অত্যচারের ঘটনা ঘটছে রাজ্য জুড়ে। হুমকি দেওয়া হয়েছে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের। এটাই কি বাংলার মহিলাদের উন্নয়ণের সোপান? এভাবেই রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী।

নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক অভিযোগের সুরে বলেন,”মালদার হবিবপুরের তপশিলী উপজাতির একই পরিবারের দুই মহিলা ধর্ষিত হয়েছে। মানিকচকে নয় বছরের বালিকাকে ৬০ বছরের বয়স্ক একজন ধর্ষণ করেছে। ফারাক্কাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মালদার বৈষ্ণবনগরের একটি ছোট্ট মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কোথায় গেছে নারী সুরক্ষা?
মহিলাদের হাতে পকেটমানি দেওয়ার কথা ছিল পয়লা জুন থেকে। ১৪ তারিখ হয়ে গেল, পকেটমানি তো দেওয়াই হয়নি, উল্টে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় পান্ডুয়াতে যেতে গিয়ে বাধা প্রাপ্ত হয়েছেন। বিধায়ক তাপসী মন্ডলকে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হচ্ছে। হবিবপুর মানিকচক ফারাক্কার বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোর কাছ থেকে ক্রন্দনধ্বনি আসছে।” শুভেন্দু প্রশ্ন তুলেছেন,এটাই কি বাংলার মানুষের নারী সুরক্ষা? এটাই বাংলা মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সোপান?”

শুভেন্দু আরও বলেন, “তপশিলী জাতি উপজাতিদের উপর বিশেষ ভাবে আক্রমণ হচ্ছে। বীরভূমের খয়রাশোলের বাউরি পরিবারের সদস্য বিজেপির মন্ডল সহ সভাপতি মিথ্যা মামলায় জেল খেটে বাড়ি যাওয়ার পর দুদিন আগে খুন হয়েছেন। এসসি এসটি কমিউনিটি উপর আক্রমণ, দিল্লি চুপ করে বসে থাকবে কেন? ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিরোধী দলনেতা বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, “এসসি কমিশন ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবারের এসপি, সন্দেশখালির আইসি সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিডিউল ট্রাইব কমিশনের বড় টিম ভাতার, সন্দেশখালি, জামবনি সহ বহু জায়গায় আসছে। সুপ্রিম কোর্টও খেজুরির অপর্না দাসের ধর্ষণ নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কেউ ভেবে থাকেন ক্ষমতার দম্ভে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আর সন্ত্রাসীদের দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা শেষ করে দেবে, বিরোধীদের খতম করবে তাহলে ভুল হবে।”

শুভেন্দু অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের এক মাস ১২ দিন পরেও ১৭ হাজারেরও বেশি বিজেপি কর্মী বাড়িতে নেই। এর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী চন্দননগর ও কলকাতার উপকন্ঠে তিলজলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তার কথায় “মানুষের আস্থার জায়গাতে হামলা করা হয়েছে। প্রতিবাদ করতে যাওয়া কিছু যুবক ছেলেদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বলেছি ধর্মনিরপেক্ষতার মানে সনাতনীদের বিপন্ন হওয়া নয়। এটা দেখতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। যেহেতু রাজ্যপাল কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি সেটা তাঁকে দেখতে হবে। ২ তারিখ থেকে যে রাজনৈতিক সন্ত্রাস চলছে সেটা কমিউনাল ভায়োলেন্সে পরিণত হয়েছে। সিডিউল কাস্ট সিডিউল ট্রাইব প্রায় সকলেই বিপন্ন। গত সাত দিনে পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা যেভাবে অবনতি হয়েছে তা বলার নয়। খালিস্তানি উগ্রপন্থীরা এখানে শুট আউট হচ্ছে।”

ভোট পরবর্তী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মহিলা-শিশু সুরক্ষা, তপশিলী জাতি উপজাতিদের উপর অত্যচার, বিজেপির কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here