ট্রেন চালানোর আবেদন তারাপীঠ মন্দির কমিটির

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৩ অক্টোবর: পুন্যার্থীদের জন্য হাওড়া এবং শিয়ালদা থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত দুটি বিশেষ ট্রেন চালানোর আবেদন জানাল তারাপীঠ মন্দির কমিটি। করোনা মহামারির কারণে ১৮ মার্চ থেকে পুন্যার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় তারাপীঠ মন্দিরের দরজা। তবে নিত্যপুজো চলেছে নিয়ম মেনেই। তিনমাস পর রথের দিন অর্থাৎ ২৩ জুন মন্দির খোলা হলেও ১ আগস্ট থেকে পুনরায় মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৪ আগস্ট ফের মন্দির খুলে দেওয়া হয় পুন্যার্থীদের জন্য। তবে পুন্যার্থীর সংখ্যা একদম নগণ্য। কারণ পুন্যার্থীরা অধিকাংশই আসেন রেলপথে। কিন্তু ২৪ মার্চ থেকে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুন্যার্থীরা ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারছেন না। ফলে তারাপীঠের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক পরিবার এখন আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “অধিকাংশ পুন্যার্থীরা ট্রেনে আসেন। কারণ কলকাতা থেকে গাড়িতে আসা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে মন্দির খোলা থাকলেও পুন্যার্থীর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। তাছাড়া তারাপীঠ মন্দিরকে ঘিরে চার শতাধিক লজ গড়ে উঠেছে। তার অধিকাংশই এখনও বন্ধ। ফলে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন্যাল ম্যানেজার এবং রাজ্য সরকারের কাছে ট্রেন চালানোর আবেদন জানালাম। আমাদের দাবি, হাওড়া এবং শিয়ালদা থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হোক”।

মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত দুই শতাধিক অটো ট্রেকার। ট্রেন বন্ধের ফলে সমস্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই সমস্ত পরিবার এখন অর্ধাহারে রয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে ট্রেন চালানো উচিত”।

লজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, “ট্রেন চালু না হলে লজ ব্যবসা চলবে না। এখনও বহু লজ বন্ধ রয়েছে। ফলে লজের কর্মীরা কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন। তাই মন্দির কমিটির পাশাপাশি আমরাও আবেদন করব ট্রেন চালানো হোক”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here