হিন্দু বিদ্বেষ মূল বিষয়! তদন্তে ইকবাল কোরান অবমাননা করছে জেনেও কেনো নিশ্চুপ বাংলাদেশী মুসলিমরা, প্রশ্ন তসলিমা নাসরিনের

আমাদের ভারত, ২৩ অক্টোবর:কোরান অবমাননার কারণ দেখিয়ে হিন্দুদের উপর হামলা হয়েছে। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে কোরান অবমাননা আসলে কোনো হিন্দু করেনি। যে পবিত্র কোরান হিন্দু দেবতা বজরং বলির থাইয়ের উপর রেখে এসেছিল তার নাম ইকবাল হোসেন অর্থাৎ সে হিন্দু নয়। আর এখানেই বিদ্রোহী লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রশ্ন তুলেছেন কোরান অবমাননার দায়ে এবার কেন ইকবালের উপর বা তার বাড়িতে হামলা হচ্ছে না?

লজ্জার লেখিকা প্রথম থেকেই বাংলাদেশের হিন্দুদের পুজো মণ্ডপ, মন্দিরে হামলা, বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় সরব। তাঁর অভিযোগের আঙুল যেমন মুসলিম মৌলবাদীদের দিকে উঠেছে তেমনি তাঁর অভিযোগের কাঠগড়ায় উঠেছে বাংলাদেশের হাসিনা সরকার। দুর্গাপুজোর সময় থেকে ঘটে চলা লাগাতার হিন্দুদের উপর হামলা, নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, এই কোরান অবমাননা আসলে শুধুমাত্র একটা অজুহাত। মৌলবাদীদের আসল লক্ষ্য হিন্দুদের ওপর চড়াও হওয়া, আর বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করে দেওয়া।

ইতিমধ্যেই এই হিংসার সূত্রপাত যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেফতার করেছে সেদেশের পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে সে রাতের অন্ধকারে মসজিদ থেকে কোরান নিয়ে এসে দুর্গাপুজোর মন্ডপে প্রবেশ করছে ও কিছুক্ষণ পর হনুমানের গদা নিয়ে বেরিয়ে আসছে। সেই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারও করা হয়েছে। জানা গেছে, সেই ব্যাক্তির নাম ইকবাল হোসেন। তার নাম থেকে স্পষ্ট সে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নয়, সে মুসলমান। অথচ সে–ই পবিত্র কোরানের অবমাননা করেছেন। আর এই কোরান অবমাননার অভিযোগ তুলেই বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর শেষ দশদিন ধরে একের পর এক হামলা চলছে। হিংসার বলি হয়েছে নিরীহ হিন্দু মানুষ থেকে শুরু করে ইসকনের সন্ন্যাসী। ধ্বংস হয়েছে একের পর এক মন্দির। আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে একের পর এক হিন্দুদের বাড়ি ঘর গ্রাম। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েদের ধর্ষণের অভিযোগও শোনা গেছে। অথচ যে কোরান অবমাননার জন্য হিন্দুদের উপর এই অত্যচার চলল তারজন্য তারা দায়ি নয়। বরং তার জন্য দায়ী এক মুসলিম ব্যাক্তি, যে নিজে সেটা স্বীকার পর্যন্ত করেছে।

আর এর পরেই বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রশ্ন তুলেছেন। মৌলবাদীরা বলেছেন, কোরান অবমাননার দায়ে হিন্দুদের ওপর এই হামলা হয়েছে, তাহলে সত্যি জানার পর নিশ্চিত ভাবে ওই ইকবাল হোসেনের অবস্থাও তারা একই করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তাই লেখিকার কটাক্ষ কোরান অবমাননা আসলে শুধুমাত্র একটা অজুহাত, মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দুদের উপর অত্যচার।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here