টানা বৃষ্টিতে আবারও বিপাকে উত্তরবঙ্গের দুই জেলার চা-বাগান

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ২২ জুলাই: ভুটান পাহাড় ও সমতলে একটানা বৃষ্টির জেরে লকডাউনের মধ্যে তৃতীয়বার বিপাকে পড়ল আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির চা-বলয়ের একটা বড় অংশ। আলিপুরদুয়ার জেলায় থাকা ৬৪টি চা-বাগানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার সমতল এলাকায়।

জানা গেছে, গোটা বছর যে পরিমান বৃষ্টিপাত হয় সেই একই পরিমান বৃষ্টি গত একমাসে হয়েছে। জেলার অনেক চা-বাগানে রেকর্ড পরিমান ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। যা একটি বাগানের সার্বিক উৎপাদন নষ্ট করে দেবে। প্রাথমিকভাবে চা-বাগানের মালিক সংগঠন স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের একাংশ যা তথ্য দিয়েছেন তাতে পরিস্কার দুই জেলার অন্তত ৫০টির বেশি চা-বাগানে কয়েকশো একর জমি জলের তলায় ডুবে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আলিপুরদুয়ার জেলাতেই বেশি। কারন ভুটান থেকে বড় নদীগুলির সিংহভাগ উপস্থিত আলিপুরদুয়ারেই। জেলার কালচিনি, মাদারিহাট, কুমারগ্রামের মত তিনটি ব্লকেই ক্ষতির মুখে পড়েছে চা-বাগানগুলি।

অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট, ওদলাবাড়ি, নাগরাকাটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টি অ্যাসোশিয়েসন অফ ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করছি। প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হবে।” চা-বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, “কেন্দ্রে যে সরকার রয়েছে তাদের ৪ জন সাংসদ আমাদের চা-বলয়ের। ৬ বছর ধরে উত্তরবঙ্গে বন্যা, নদীভাঙ্গন, ভুটান থেকে নামা জলের সমস্যা, চা-বাগানের ক্ষয়ক্ষতি বলা হয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি।”

এদিকে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ সাফ বলেন, ইন্দো–ভুটান নদী কমিশন কার্যকর করা, ব্রহ্মপুত্র বোর্ডের অর্থ উত্তরবঙ্গে ব্যয় করা সব দিল্লির সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে। এখানে রাজ্যের দায়িত্ব সামান্য। কারন ভুটান একটা বিদেশি রাষ্ট্র। সমস্যার সুত্রপাত সেখান থেকেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের এলাকায় বড়জোর বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার করতে পারে। তার বেশি কিছু নয়। প্রায় ১০০ শতাংশ নদীর উৎপত্তি ভুটানে। আলিপুরদুয়ারকে ডুবিয়ে দিচ্ছে ভুটান। ভুটানের ডলোমাইট মেশানো জলে সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে অন্তত ৪০টি পাহাড়ের পাদদেশে থাকা চা-বাগানের। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ প্রয়োজন। এদিকে ভুটান পাহাড়ে টানা বৃষ্টি হলে পরিস্তিতি আর বিপদজনক হবেই জানিয়েছে চা মহল।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here