টাকার জন্য খুন কিশোর, ধৃত যুবক

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১৩ সেপ্টেম্বর: ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হল কিশোরের দেহ। গত শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল তুষার চক্রবর্তী নামে বছর বারোর এক কিশোর। ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোনও খোঁজ মেলেনি। শনিবার দুপুরে ঐ কিশোরের মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ আসে তার বাবা ভাস্কর চক্রবর্তীর ফোনে। সেই মেসেজের সুত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে জয়নগর থানার পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে প্রতিবেশী যুবক মনিরুল সেখকে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্থানীয় একটি জঙ্গলের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় তুষারের রক্তাক্ত মৃতদেহ। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার বিশালক্ষ্মীতলা উত্তরনীচ পাড়ায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, অন্যান্য দিনের মত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে বেড়িয়েছিল তুষার চক্রবর্তী, তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। বাড়িতে সে জানিয়েছিল পাড়াতুতো দাদা ভোলা ওরফে মনিরুলের সাথে টিয়া পাখি আনতে যাবে। কিন্তু বিকেলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর সে বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হলেও তুষার বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। সারারাত পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোনও সন্ধান না পেয়ে অবশেষে জয়নগর থানায় অভিযোগ জানায়।

নিখোঁজ তুষার চক্রবর্তী দক্ষিণ বারাসত শিবদাস আচার্য উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বাবা ভাস্কর চক্রবর্তী পাড়ার মধ্যেই একটি দোকান চালান। শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তরপাড়ানীচ গ্রামের বিশালক্ষী তলায় বাড়ি তাদের। শনিবার দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে পাড়ার সবাই খুঁজতে শুরু করে দেয় তাদের পাড়ার ছোট্ট গদাই অর্থাৎ তুষারকে। এরই মধ্যে শনিবার তুষারের বাবার ফোনে একটি ম্যাসেজ আসে, সেখানে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে সেই টাকা ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়। তুষারের পরিবার সমস্ত ঘটনার কথা জয়নগর থানাকে জানায়। এরপর পুলিশ ওই মেসেজের সূত্র ধরে নিখোঁজ তুষারের পাড়ারই যুবক মনিরুল শেখ ওরফে ভোলাকে আটক করে এবং দিনভর দফায় দফায় জেরা করার পর জানতে পারে মনিরুল তুষারকে খুন করে বাড়ির সামনেই একটি বাগানে ফেলে রেখে দিয়েছে। সে আরও জানায় তার টাকার খুব প্রয়োজন তাই তুষারকে মেরে তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ নিয়ে সে পালাবে।

মণিরুলের কথার উপর ভিত্তি করে পুলিশ সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে নিখোঁজ কিশোর তুষার চক্রবর্তীর নিথর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পাড়ার কেউই মেনে নিতে পারছে না তুষার আর নেই। তাই উত্তেজিত মানুষ একত্রিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মনিরুলের বাড়ির উপরে। তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্ত মনিরুলের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তোলেন তারা। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় জয়নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

শুক্রবারও এলাকায় ছিল থমথমে পরিবেশ। নিহত কিশোরের পরিবার কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। সকলেই চাইছেন দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক অভিযুক্তের। এদিন দুপুরে বারুইপুর থানা থেকে অভিযুক্ত মনিরুলকে বের করে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারক অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। রবিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্তের পর তুষারের দেহ ফেরে এলাকায়। গ্রামের মানুষজন ছোট্ট গদাইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। সকলেই চোখের জলে বিদায় জানান গদাইকে। যাতে নতুন করে এলাকায় কোনও রকম উত্তেজনা না ছড়ায় সেই কারণে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here