উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ৯টি ট্রেন বেসরকারির হাতে দেবার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শুরু হল আন্দোলন

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৮ জুলাই: উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে মোট ৯টি ট্রেনকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত রেলের তরফে প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে নির্দিষ্ট রুটে চলা ৯টি ট্রেনের তালিকাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলের দুটি শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন এনএফ রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়ন এবং এনএফ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের তরফে সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে দুটি সংগঠনই।

মঙ্গলবার গোটা বিষয়টিকে সামনে রেখে আন্দোলনে নামলো আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। রেলের এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই করোনা পরিস্থিতি থাকায় পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সম্পাদক সুজিত মিশ্র। মজদুর ইউনিয়নের তরফে বিভাস জোয়ারদার জানান, “গণজাগরণ কর্মসূচি পালিত হবে।”

উল্লেখ্য, ভারতীয় রেলের তরফে ইতিমধ্যেই দেশের ১০৯টি রুটে বেসরকারির মাধ্যমে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পরই তীব্র জল্পনা ছড়ায়।জল্পনা আরও বেড়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে ৯টি ট্রেন বেসরকারি হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্তে। যার দরুন সরাসরি উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব পরবে উত্তরবঙ্গ সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে।

রেল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি মহলের মতে এখন ১০টাকায় ৪০কিমি যাওয়া যায়। ভাড়ার এই পরিস্থিতি হয়তো আর থাকবে না। ভাড়া বাড়বে। আপাতত সীমান্ত রেলে যে ট্রেনগুলি তালিকায় এসেছে তার মধ্যে রয়েছে গৌহাটি-দিল্লি দৈনিক এক্সপ্রেস, গৌহাটি-ব্যাঙ্গালুরু, গৌহাটি-কোচি, হাওড়া-বঙ্গাইগাঁও, গৌহাটি-শিয়ালদহ ত্রিসাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। বাকি সাপ্তাহিক ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে গৌহাটি-দ্বারভাঙ্গা, আগরতলা-ভূপাল, ডিব্রুগর-পুনে, আগরতলা-করিমগঞ্জ এক্সপ্রেস।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রেনের চালক, গার্ড রেলের তরফেই থাকবেন। ৩৫ বছরের চুক্তি হবে। উল্লেখ্য, এদিন পর্যন্ত উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল ১২০টি বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চালিয়ে আসছে। রেল কর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বেসরকারিকরনের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সাফ বলেন, ১৬০ কিমি গতিবেগে ট্রেন চলবে বলা হচ্ছে। তবে সীমান্ত রেলের রেল ট্রাকের যা পরিকাঠামো তাতে ১১০ কিমির বেশি গতিতে ট্রেন চালানোই সম্ভয় নয়। প্রচুর টাকা ভাড়া দিয়ে সবার পক্ষে ট্রেন চলা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা রেল। ভারতীয় রেলকে সবার আগে সেটা মনে রাখতে হবে।

এদিকে, আলিপুরদুয়ার জুড়ে গতকাল বিভিন্ন স্টেশনে তৃণমূলের তরফে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সভা চলে। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন,“ইন্দিরা গান্ধী রেল জাতীয়করন করেছিলেন। আর স্বাধীনতার ৭০বছর পর একটি দল রেল বিক্রি করছে।” উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন্দ চন্দা সাংবাদিকদের বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি তরফে বিনিয়োগ হবে। সেই অর্থে আমরা বর্তমান পরিকাঠামোর উন্নতি করতে পারব।রেল কর্মীদের উদ্বেগের কোনও কারন নেই।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here