ভিনরাজ্যে আটকে থাকা বাংলার পড়ুয়া-শ্রমিক- পর্যটকদের ফেরানোর উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা, ২৭ এপ্রিল: দেশে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাস খানেক ধরে আটকে রয়েছেন অনেক পড়ুয়া, পর্যটক এবং শ্রমিকরা। এর মধ্যে রেড জোন করোনা সংক্রামিত এলাকাতেও রয়েছেন অনেকে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা বারেবারেই রাজ্যে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে আসার জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন। এবার ভিনরাজ্যে আটক বাংলার পড়ুয়া-শ্রমিক-পর্যটকদের ফেরানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য প্রশাসন।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরপর দুটি টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন,’লকডাউনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা রাজ্যবাসীকে বাড়িতে ফেরানোর জন্য রাজ্য সরকার সবরকম সাহায্য করবে। আমি সরকারি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছি। যতক্ষণ আমি আছি, রাজ্যের কারোর নিজেকে অসহায় মনে করার প্রয়োজন নেই। সংকটের সময় আমি সকলের সঙ্গে আছি।’ পরের টুইটে তিনি আরও লেখেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখছি। সাহায্যের কোনও খামতি থাকবে না। কোটায় আটকে থাকা পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত তাঁরা বাড়ি ফিরে আসবেন।”

প্রসঙ্গত, ভিন রাজ্যে কাজ করে এ রাজ্যে পরিবারকে টাকা পাঠান রাজ্যের জেলার অনেক শ্রমিকরাই। লকডাউনে একদিকে যেমন তাদের জীবিকা হারিয়েছে, তেমনই নিজের গ্রাসাচ্ছদনের ব্যবস্থাটুকুও অনেকে করে উঠতে পারছেন না। তাদের পরিবারগুলিও অর্থকষ্টে ভুগছে। আর এ দিকে বার বার লকডাউন বেড়ে চলায় তাদের ভোগান্তি চরমে। প্রথমবার লকডাউন ঘোষণার পরেই দিল্লির আনন্দ বিহারে ভিড় করে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন শ্রমিকরা। আবার ১৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বার লকডাউন বাড়ানোর পর মুম্বইয়ের বান্দ্রায় বাড়ি ফিরতে চেয়ে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। তৃতীয়বার লকডাউন বাড়লে তাদের বিক্ষোভ যে বাঁধনছাড়া হবে, সে কথা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগে থেকে না জানতে পারার ফলে ঘুরতে গিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ি রাজ্যে আটক রয়েছেন বহু পর্যটক এদের অনেকেরই টাকা পয়সা শেষ হয়ে এসেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে পড়েছেন তারাও। একই ভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কোটায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় আড়াই হাজার পডুয়া আটকে রয়েছেন। দেশের আরো অন্যান্য বিভিন্ন রাজ্যেও অনেক পড়ুয়া আটকে রয়েছেন। চিকিৎসা করতে গিয়ে চেন্নাই ও ভেলোরে আটকে রয়েছেন বাংলার বাসিন্দারা। সেখানে তারা হোটেলের ভাড়া দিতে পারছেন না। এদের সকলকে বাংলায় ফেরাতে কেন্দ্রকে এদিন বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনকি প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা করা হবে বিশেষ বাসেরও।

এদিন সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকের মাঝেই এই দুটি পোস্ট করেন মমতা। তাই অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। আর তার পরপর দুটি টুইটে স্বাভাবিকভাবে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ভিনরাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিক পড়ুয়া পর্যটকরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here