নির্মল বাংলার অজানা কথা, বুদবুদ বাজারে পুজোয় লাটে উঠল সাফাই কাজ, দুর্গন্ধে অতিষ্ট ও ডেঙ্গু আতঙ্কে দর্শনার্থীরা

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২ অক্টোবর: নির্মল বাংলা কিম্বা স্বচ্ছ ভারত। দুই প্রকল্পের অজানা কথা। যত্রতত্র আবর্জনার পাহাড়। নোংরা আবর্জনায় মজে গেছে নিকাশী। সামন্য বৃষ্টিতে নিকাশীর নোংরা জল উপচে প্লাবিত হচ্ছে দোকান বাজার। তারওপরই সাত সকালে ফেলা হচ্ছে মাছের গাড়ির জল। আর তাতেই দূষিতর পাশাপাশি বেহাল হচ্ছে বাজারের রাস্তা। কর্মী আছে, গাড়ি আছে, স্বচ্ছ ভারত মিশনের ডাস্টবিন বসলেও মুখ থুবড়ে সাফাই কাজ। ডাস্টবিন উপচে রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে নোংরা আবর্জনা। আর তাতেই নাকাল পথচলতি দর্শনার্থীরা। পুজোয় বাজারে জমা জঞ্জালে ডেঙ্গু আতঙ্কে সিঁটিয়ে দর্শনার্থীরা। এমনই দূরাবস্থার ছবি ধরা পড়ল বুদবুদ বাজারে।

বুদবুদ বাজার বহু পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী। একটা সময় মহকুমা সদর ছিল বুদবুদ। পুরনো জিটি রোড বাইপাস হওয়ার পর যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমেছে। তবে বাজারে নোংরা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হয়ে উঠেছে। তার ওপর দেদার প্লাস্টিকের ব্যবহারে মজে গেছে নিকাশী। বাজারকে স্বচ্ছ রাখতে উদ্যোগী হয় বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েত। গত বছর পুজোর আগে গোটা বুদবুদ বাজারে বসানো হয় ১০০ টি ডাস্টবিন। বুদবুদ বাজার, মানকর রোড, অ্যামুনিশেন রোড সহ সব জায়গায় বসানো হয়েছে ডাস্টবিন। প্রতিদিন নিয়ম করে সাফাই করার কাজের জন্য নোংরা ফেলার গাড়ির ব্যবস্থা হয়। ভর্তি হওয়া ডাস্টবিনের নোংরা ডাম্পিং গ্রউন্ডে ফেলার জন্য দুটো গাড়ির সঙ্গে দুজন লোকও রাখা হয়। গোটা বাজারের পরিচ্ছন্নতা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছিল। মাস পাঁচেক সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু তারপর আচমকাই মুখ থুবড়ে পড়ে সাফাইয়ের কাজ।

আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়ছে নোংরা জঞ্জাল। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে আবর্জনা। পুজোর দুদিন আগে নিকাশী নালা কিছুটা সাফাই করা হয়। কিন্তু, বাজারের ডাস্টবিন সেভাবে সাফাই না হওয়ায় নোংরা জঞ্জাল উপচে পড়ছে রাস্তায়। পুজোর সময় ডেঙ্গু সচেতনতায় জোর তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কাড়ি কাড়ি টাকায় বসানো হয়েছে হোর্ডিং। চলছে সচতনতার প্রচার, পথনাটিকা। অথচ পরিকাঠামো থাকা স্বত্বেও পুজোর মুখে সাফাই হল না ডাস্টবিন। আর তাতেই মশা মাছির আতুঁড় ঘরে পরিণত হয়েছে। আর তাতেই আতঙ্কে পথ  চলতি প্রতিমা দর্শনার্থীরা। জমা জঞ্জালের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী। তার ওপর বাজারে নিকাশী মজে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ব্যাবসায়ীরা। একশো দিনের কাজ বন্ধ থাকায় লাটে উঠেছে নিকাশী সাফাই। আর তাতেই সামন্য বৃষ্টিতে নিকাশীর নোংরা জল উপচে পড়ছে দোকান বাজারে। দুদিন আগে বাজারের বেশ কিছুটা নিকাশী সাফাই করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় গোটা বাজার সাফাই হল না। বুদবুদ মানকর রোড ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে আবার তিন তিনটে ডাস্টবিন জড়ো করে রাখা হয়েছে। সেখানের জঞ্জাল আবার রাস্তার ওপর উপচে পড়ছে। আর তার ওপর জনবহুল বাজারে রাস্তার ওপর নিত্যদিন অবাধে ফেলা হচ্ছে মাছের গাড়ির জল। তাতে দুর্গন্ধ যেমন ছড়াচ্ছে। তেমনই মজে যাওয়া নিকাশী থেকে উল্টে উপচে পড়ছে নোংরা জল। বেহাল হচ্ছে রাস্তা। তার ওপর দূষিত হচ্ছে গোটা বাজার। নোংরা জমা জলের ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ মানুষ।

কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকার স্বছতার জোর তৎপরতা শুরু করেছে। লাগাতার প্লাস্টিক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় প্রচারের পাশাপাশি অভিযানও চলছে। অন্যদিকে তখন পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সাফাই হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মা অভিযোগ তুলে বলেন, “ডাস্টবিনগুলো কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পে বসানো হয়েছে। ডাস্টবিনের গায়ে স্বচ্ছ ভারতের চশমা লোগো বসানো আছে। তারপরও নিয়মিত সাফাই করাতে তৃণমূল সরকার নোংরা রাজনীতি করে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের সরকার নয়। এরা সিন্ডিকেট, মাফিয়া, দুর্নীতিবাজদের সরকার। ধিক্কার জানাই।” 

অন্যদিকে বুদবুদের পঞ্চায়েতের প্রধান শুভ্রা ভট্টাচার্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুদিন আগেই সাফাই করা হয়েছে গোটা বাজার। এই অভিযোগ ভিত্তীহিন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here