প্রবল বিতর্কের জেরে আচমকাই নিষ্ক্রিয় করোনা-মৃত্যুর অডিট কমিটি

রাজেন রায়, কলকাতা, ৩ মে:
প্রকৃত করোনার কারণে কত জনের মৃত্যু হয়েছে আর কত জনের করোনা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে তৈরি করা হয়েছিল ‘ডেথ অডিট কমিটি।’ করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালগুলিকেও ৩৪ দফা ফর্ম পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চরমে। এমনকি আইসিএমআর গাইডলাইন মেনে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না বলে এই কমিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্যে সফররত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলও।

সূত্রের খবর, ঘরে-বাইরে এই প্রবল বিতর্ক ও চাপের মধ্যে পড়ে আচমকাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে সেই ডেথ অডিট কমিটি। ৩০ এপ্রিলের পর আরও কোনও মৃত্যুর রিপোর্ট ওই কমিটির কাছে পাঠানো হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, একমাত্র বিশেষ রকম কোনও মৃত্যু হলে তবেই ওই কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। কেন আর কোনও রিপোর্ট তাদের কাছে পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তারপরেও গত ৩ দিনে ১৭ জনের মৃত্যু ঘোষণা করেছে রাজ্য।

প্রসঙ্গত, করোনায় মৃত্যু হলে তথ্য গোপন করা হচ্ছে, এমন প্রশ্ন বারবারই তুলেছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গত সপ্তাহের শেষ দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বলেছিলেন, অডিট কমিটির গঠন তিনি করেননি বা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও করেননি। এই কমিটি গঠন স্বাস্থ্য সচিবরা করেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কি ভাবে তাঁকে না জানিয়ে এভাবে কমিটি গঠন হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বলেছিলেন, ‘তাহলে সরকারটা কি ভূতে চালাচ্ছে?’

এদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের চিঠির পরেই রাজ্যে সম্পূর্ণ মৃত্যুর তথ্য জানান মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। তার মধ্যে গত শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছিলেন, সে দিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নবান্নের শীর্ষ সূত্রে খবর, ওই দিনই অডিট কমিটি তাদের সর্ব শেষ রিপোর্ট সরকারকে দিয়েছিল। সেদিন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, অডিট কমিটি গঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী মারা গেলে মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করা। যাতে করে নতুন এই ভাইরাসের চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও জানা যায়।

স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তার কথায়, সরাসরি ওই কমিটিকে নিষ্ক্রিয় করার কথা কোনওদিনই বলবে না প্রশাসন। তবে কাজের সংজ্ঞা বদলে যেতে পারে। যেমন ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে রোগীর শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, কোন রোগীদের ঝুঁকি কম, কাদের ঝুঁকি বেশি। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কত দিন পরে রোগী মারা যাচ্ছে। তবে রোগীর মৃত্যুর পর হয়তো আর কারণ খোঁজার জন্য এই কমিটিকে সরাসরি ব্যবহার করবে না প্রশাসন। ৩০ এপ্রিলের পর ঘটনাক্রম সেদিকেই নির্দেশ দিচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here