করোনা এবার শব্দছকে, গিনেসের পথে বাঙালি যুবক

চিন্ময় ভট্টাচার্য, আমাদের ভারত, ১৮ মে: শব্দের ছকে এবার বন্দি হল নোভেল করোনা ভাইরাস। বিশ্ববাসীকে লকডাউনে ঘরবন্দি করে জীবনের নানা রস থেকে করোনা ভাইরাস বঞ্চিত করছে। এবার সেই করোনাকেই শব্দছকে বন্দি করেছেন সন্তোষপুর এলাকার শুভজ্যোতি রায়। করোনা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়ার সঙ্গে শব্দছকের মাধ্যমে তিনি লকডাউনে ঘরবন্দি বাংলা পত্রিকার পাঠকদের উপহার দিয়েছেন শব্দছক পূরণের মজাও।

শুভজ্যোতির কথায়,’এক সংবাদপত্রের আধিকারিককে প্রস্তাবটা দিয়ে বলেছিলাম, করোনা নিয়ে শব্দছক তৈরি করব? শুনে বলেছিলেন কর। তার পরই করোনা নিয়ে এই শব্দছক বানালাম। এই ছকের মাধ্যমে সমাজকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বার্তা দিতে চেয়েছি। সেজন্যই শুরু করেছি, করোনা আর না- এই কথা দিয়ে।’

করোনাই অবশ্য প্রথম নয়। পেশায় শব্দছক নির্মাতা শুভজ্যোতি ইতিমধ্যেই ৫২ রকম বিষয়ের ওপর শব্দছক তৈরি করেছেন। কখনও তাঁর শব্দছকে ধরা পড়েছে দুর্গাপুজো, কখনও আবার রথযাত্রা, রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায় থেকে ডাইনোসর। এবার যেমন করোনা। সোমবার দুপুরে সন্তোষপুরের বাড়ি থেকেই ফোনে বললেন, ‘বাড়ি থেকে স্কুল, কতবার যে শব্দছকের জন্য বকুনি খেয়েছি, মার খেয়েছি। এমনও হয়েছে যে স্কুলে স্যার পড়াচ্ছেন, আর আমি বাড়ির খবরের কাগজ থেকে কেটে নিয়ে আসা শব্দছক সমাধান করছি।’ যেন তখনই ইঙ্গিত ছিল, বড় হয়ে তিনি কলকাতা শহরের বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে শব্দছক প্রণেতা হিসাবে কাজ করবেন।’ ইঙ্গিতটা আরও স্পষ্ট হয় শুভজ্যোতি নবম শ্রেণিতে ওঠার পর। সেই সময় তাঁর তৈরি শব্দছক প্রথমবার খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়।

দু’বছর আগেই সন্তোষপুরের এই যুবকের তৈরি ১,৭০০-র বেশি শব্দছক বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ নামও উঠে গিয়েছে। এখন বিভিন্ন সংবাদপত্রে তাঁর প্রকাশিত শব্দছকের সংখ্যা তিন হাজার ছুঁইছুঁই। সংখ্যাটা তিন হাজার পেরোলেই ‘লিমকা বুক অফ রেকর্ডস’, পাঁচ হাজার পেরোলে ‘গিনেস বুক’-এ নাম তোলার জন্য আবেদন করবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন শুভজ্যোতি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here