পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল বিপুল রায়ের শেষকৃত্য, চোখের জলে তাঁকে বিদায় জানাল আলিপুরদুয়ারবাসী

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১৯ জুন: দীর্ঘ দুইদিন অপেক্ষার পর অবশেষে লাদাখে চীনা সৈনিকের হাতে শহিদ বিপুল রায়ের দেহ সেনা জওয়ানদের ঘাড়ে চেপে গ্রামে পৌছাতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল পরিবারের সদস্যদের সাথে গোটা গ্রামের মানুষ।শহিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গ্রামে এসেছিল লক্ষাধিক মানুষ। সেনা ও পুলিশের তরফে গান স্যালুটের মাধ্যমে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা গদাধর নদীর ধারে বীর শহিদের মরদেহ বিলিন হল পঞ্চতত্ত্বে।

উল্লেখ্য, আগ্রাসনকারী চীন সেনাদের সঙ্গে লড়াইতে লাদাখের গালওয়ানে দেশের আর ১৯জন সেনা কর্মী, অফিসারের সাথেই শহিদ হয়েছিলেন বিপুল রায়(৩৬)। এরপর এদিন সকাল ৯টা থেকেই মানুষের অপেক্ষা শুরু হয়েছিল। কখন আসবে পাড়ার সকলের প্রিয় সেই ছেলেটা। যে কি না ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এলেই বাচ্চাদের সঙ্গে মার্বেল খেলায় মেতে উঠতো। বাড়ি ফিরে এলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত কোনও না কোনও অসহায়ের দিকে। সেই ছেলেটাই ফিরবে। তবে পায়ে হেঁটে নয় আসবে কফিনবন্দি হয়ে। এখন আর সে শুধুই বিপুল রায় নয়। শহিদ বিপুল রায়। শহিদকে শেষবারের মত শ্রদ্ধা, সম্মান জানাতে স্বাভাবিকভাবেই উপচে পড়ল ভিড়। যে ভিড় পুলিস প্রশাসনের কল্পনায় ছিল না। শুধু আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি জেলাই নয়, প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকেও ছুটে আসল মানুষ। এদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম প্রমাণ করেছে, মানুষ চীনের প্রতি কতটা ক্ষুদ্ধ।

শুক্রবার বিকেল তিনটের সময় হাসিমারা এয়ারফোর্স স্টেশনে পৌঁছে যান মন্ত্রী গৌতম দেব, জেলাশাসক, জেলা পুলিস সুপার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, তিনজন বিধায়ক সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। বায়ু সেনা ও স্থলসেনার তরফে সেখানে পূর্ণ রাস্ট্রীয় মর্যাদায় বিপুল রায়কে গান স্যালুট দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে। শহিদের বাড়ির উঠোনেই শেষ শ্রদ্ধা জানান বিজেপির দুই সাংসাদ জন বারলা এবং নিশিথ প্রামাণিক সহ বিধায়ক মনোজ টিজ্ঞা, উইলসন চম্প্রামারি সহ অনান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

শহিদের দেহ পৌছানোর একটু পরেই গ্রামের বাড়িতে পৌছায় শহিদের স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা। তবে কার্যত পাথর হয়ে যাওয়া স্ত্রী রূম্পা বেশকিছুক্ষণ কফিন ধরেই বসে থাকেন। এরপর বাড়ির সামনেই মাঠে প্রকান্ড মঞ্চে দেহ শায়িত রাখা হয়।রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠনগুলি থেকে প্রতিনিধিরা শহিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর শহিদের দেহ নিয়ে আসা হয় গদাধর নদীর ধারে শ্মশান ঘাটে। সেখানে সেনা ও পুলিশের তরফে দেওয়া হয় গান স্যালুট। সাধারণ মানুষও রোদ বৃষ্টির মধ্যেই টানা ৮ ঘন্টা অপেক্ষা করে একদম শ্মশান পর্যন্ত পৌঁছে শেষবারের মত শহিদকে সম্মান, মর্যাদা দিল বিন্দিপাড়া গ্রাম।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here