নিজের জন্মদিনে ‘আমফান’ মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তুতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ মে: এ যেন উলটপুরাণ। এতদিন রাজ্য প্রশাসনের বিন্দুমাত্র ক্রটি দেখলেও সমালোচনা করতে ছাড়তেন না রাজ্যপাল। কিন্তু এদিন নিজের জন্মদিন বলেই কি মন পরিবর্তন! সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’ মোকাবিলার জন্য রাজ্যের তরফে প্রস্তুতির ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। যা দেখে চমকে গিয়েছেন নবান্নের অনেক শীর্ষ আধিকারিকরাই।

মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আবহাওয়া দফতরের ক্রমাগত নজরদারিকেও প্রশংসা করেছেন রাজ্যপাল। সোমবার রাতে পরপর দুটি ট্যুইট করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীর দফতর আমফান মোকাবিলার জন্য যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এই আমফান আছড়ে পড়বে ২০ মে। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া হুগলি কলকাতা এই সাইক্লোন এর দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এনডিআরএফ ও ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের জাহাজ এবং এয়ারক্রাফট প্রতিনিয়ত মৎস্যজীবীদের ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের কাজে গর্ব অনুভব করছি। তাঁদের এই বিজ্ঞানসম্মত সাফল্য এসেছে এত নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য। এই সময় রাজনীতি নামক জীবাণুকে দূরে রাখাই ভালো।’ রাজ্যপালের এই ইতিবাচক মনোভাবকে প্রশংসনীয় বলেছেন রাজনৈতিক মহল।

প্রসঙ্গত, ক্রমেই অতি শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ঘূর্ণিঝড় এই আমফান সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে পৌছতে পারে। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই দুই ২৪ পরগনা,পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার। এমনকি কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সর্তকতা জারি করা রয়েছে। কয়েক বছর আগে আসা আয়লা থেকেও এর ধ্বংসলীলা মারাত্মক হবে বলে পূর্বাভাস।

মঙ্গলবার এই বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এই জেলাগুলির জেলা শাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন নবান্ন সূত্রে খবর। সুপার সাইক্লোনকে মোকাবিলা করতে রাজ্যে তরফে এই বিপুল উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাকেই মঙ্গলবার দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন রাজ্যপাল। যা দেখে খুশি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here