গোপীবল্লভপুরে সাত সকালে উদ্ধার প্রতিমা শিল্পীর ঝুলন্ত মৃত দেহ উদ্ধার

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর:
মায়ের বোধনের আগেই অকাল বিসর্জনের পথে মায়ের অবয়ব প্রদানকারী মৃৎ শিল্পী। পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মহত্যা করলেন গোপীবল্লভপুর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির প্রতিমা শিল্পী রবীন্দ্রনাথ দাস। পুজোর এই কয়েকদিন আগে মায়ের মূর্তি তৈরির কারিগরের এই হঠাৎ মৃত্যুতে অনেকটাই বিড়ম্বনায় গোপীবল্লভপুর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, বছর ৬৭ বয়সের রবীন্দ্রনাথবাবুর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এলাকায়। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে গোপীবল্লভপুরে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন।সিজন অনুযায়ী গোপীবল্লভপুরের প্রায় সমস্ত পুজোর প্রতিমা অনুযায়ী তৈরি করে পুজো কমিটির মন্ডপ ভরিয়ে তুলতেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর মধ্যে গোপীবল্লভপুরের প্রাচীন পুজো কমিটি গোপীবল্লভপুর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে।

জানা গেছে এবছর রবীন্দ্রনাথবাবু নয়াগ্ৰাম, ছাতিনাশোল, মহাপাল এর মতো দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির বরাত নিয়েছিলেন। কয়েকজন কারিগর নিয়ে কাজ চলছিল দ্রুত গতিতে, কিন্তু তার মধ্যে শুক্রবার সকালে গোপীবল্লভপুরে তাঁর কাজের জায়গার কিছুটা দূরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় রবীন্দ্রনাথ দাস এর মৃতদেহ। পরে থানায় খবর দিলে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ঝাড়গ্ৰাম জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

হঠাৎ করে পুজোর মুখে মৃৎশিল্পী মৃত্যু হওয়াতে অনেকটাই বিড়ম্বনায় পুজো উদ্যোক্তারা। গোপীবল্লভপুর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো কমিটির সম্পাদক শুভেন্দু দে জানান, দীর্ঘদিন সফলভাবে মুর্তি তৈরি করেছেন রবীন্দ্রনাথবাবু। তার পর এবছরের মূর্তি তৈরির কাজও অনেকটা এগিয়েছে তাই এই মুহূর্তে নতুন শিল্পী এনে তার সমস্তটা ফুটিয়ে তোলা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পারিবারিক অশান্তির জন্য রবীন্দ্রনাথ দাস আত্মহত্যা করেছেন। তবে শিল্পীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here