হাইকোর্টে পর্ষদ সভাপতিকে ভর্ৎসনা, নিয়োগপত্র পেলেন প্রাথমিকের শিক্ষক

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বর: ২০১৬ সালে প্রাইমারি টেট পরীক্ষার প্রশ্ন ভুল মামলায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল ২০১৮ সালে। তার পরের বছর ২০১৯ সালেই বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, যারা যারা ভুল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তাদের সকলকে ফুল মার্কস দিয়ে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু তারপরও দুবছর কেটে গেলেও এখনও নিয়োগপত্র হাতে না পেয়ে মামলা করেছিলেন নীলোৎপল গুছাইত নামে এক যুবক। সেই মামলাতেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে ডেকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। তবে মামলাকারীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানান পর্ষদ সভাপতি।

পর্ষদের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর কোনও রকম ‘ইগো’ থাকতে পারে না বলেই তোপ দেগেছেন বিচারপতি। ২০১৬ সালের টেট পরীক্ষা নিয়ে মামলায় প্রশ্ন পত্রতেই ভুল ছিল বলে জানা যায়। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, ভুল প্রশ্নের উত্তর যারা দিয়েছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ নম্বর দিতে হবে। এর আগেও ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট মামলায় গাফিলতির অভিযোগে নিজের পকেট থেকে প্রত্যেক মামলাকারীকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ভুল প্রশ্নপত্রের উত্তরদাতাদের নম্বর না দেওয়ার কারণে পরবর্তী সময় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয় মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।

এরপরই গত ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, মানিক ভট্টাচার্যকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে। সোমবারই ছিল সেই হাজিরার দিন। এদিকে ১০ তারিখের আদালতের নির্দেশের পরই নিয়োগপত্র হাতে পান মামলাকারী নীলোৎপল গুছাইত। স্কুল শিক্ষা দফতর নিয়োগপত্র তাঁর হাতে তুলে দেয়। এদিন নীলোৎপলও উপস্থিত ছিলেন এজলাসে।

এদিন শুনানি চলাকালীন পর্ষদ সভাপতি জানান, মামলাকারী নীলোৎপল গুছাইত তাঁর নিয়োগপত্র পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পর্ষদের শীর্ষে রয়েছেন এমন একজনকে আদালতে এসে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তাও আদালত অবমাননার দায়ে। এ বিষয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এটা খুবই খারাপ দেখায়, একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে থাকা কোনও ব্যক্তিকে যখন আদালতে আসতে হয়।

একটি মামলাই যদি দু’বছর ধরে চলতে থাকে, আদালতের নির্দেশের পরও নিয়োগপত্র হাতে পেতে যদি এতটা সময় লাগে, সেক্ষেত্রে এরকম মামলাগুলির ভবিষ্যৎই বা কী? বিচারপতি এদিন নির্দেশ দেন, ‘যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করুন। এখন সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে যে শূন্য পদগুলি তৈরি হবে সেখানে নিয়োগের ব্যবস্থা করুন। এই চাকরিপ্রার্থীরা কতদিন আর লড়াই করবে? আপনার প্রচুর ক্ষমতা, আপনার সঙ্গে কতদিন লড়াই করতে পারবে? ” এর উত্তরে মানিক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা আমার দুর্ভাগ্য, যে আমাকে আদালতের সামনে হাজিরা দিতে হচ্ছে। মামলাকারীরা আমার সন্তান সম।” আদালত বলে, “আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ কার্যকর করুন। আপনার সঙ্গে যেন এই ধরনের সাক্ষাৎ আর না হয়।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here