লকডাউন বাজার কেড়েছিল, বছর ঘুরতেই হাসি ফুটছে মানকরের কদমা কারিগরদের মুখে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ অক্টোবর: কালি পুজো মানেই মানকরের কদমার চাহিদা থাকে। তবে বিগত বছরে করোনা আবহে লকডাউনে বাজার ছিল না। লোকসানে ছিল কদমা বিক্রেতারা। করোনার তৃতীয় ঢেউ চোখ রাঙাচ্ছে। তবুও যেন হাসির আবেগ মনের মধ্যে। লকডাউন নেই। এবার পুজোয় মুনাফার আসা দেখছে মানকরের বিখ্যাত কদমা ব্যাবসায়ীরা। গত একমাস ধরে কদমা তৈরীর কাজ চলছে জোর কদমে। 

পূর্ব বর্ধমান জেলার মানকর বর্ধিষ্ণু গ্রাম। এখানকার সেরা মিষ্টান্ন কদমা। আশপাশের যে কোনও পুজোয় কদমা পুজোর প্রসাদে উদ্দ্যেশ্যে দেওয়া হয়। ২৫ গ্রাম থেকে একেবার ৮ কেজি পর্যন্ত তৈরী হয় কদমা। চিনি গলিয়ে রস তৈরী করা হয়। তারপর ওই রস ফুটিয়ে পাক তৈরী করা হয়। তাতে টকজল দিয়ে সাদা স্বচ্ছ করা হয়। তারপর সেই পাক থেকে থেকে কদমা কাটা হয়। এবং কাটা কদমা ২৪ ঘন্টার মত চিনির মধ্যে রাখা হয়। একটা সময় মানকরের ৩০ টির বেশী পরিবার কদমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তী কালে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেভাবে আয় না হওয়ায় তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এই সুস্বাদু শিল্প থেকে। তবে এখনও ৫-৬ মিষ্টান্ন ব্যাবসায়ী কদমা তৈরী করেন। মানকর হাটতলার হারধন কর তাদের মধ্যে একজন। গত ৩০ বছর ধরে এই মিষ্টান্ন তৈরী করছেন। হারাধনবাবু জানান, “মানকর, বুদবুদ, আউশগ্রাম, পানাগড়, অভিরামপুর ছাড়াও আসানসোল, দুর্গাপুর ও অন্য জেলাতেও কদমার চাহিদা রয়েছে। এক দেড় কেজি ওজনের কদমা সব সময় হয়। কালিপুজোয় ৭-৮ কেজি ওজনের কদমা বিশেষ করে তৈরী করতে হয়। তবে আগাম বরাত দিলে বেশী করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “গত বছর লকডাউনে বাজার ছিল না। এবছর আশা করছি ভালো বাজার হবে। চিনির দাম বাড়লেও কদমার দামও নাগালের মধ্যে রাখা হয়েছে।” তিনি বলেন, “মানকরে কালি পুজোয়  আগাম বরাতও এসেছে। বাইরে থেকেও ৫ কেজি, ৬ কেজি, ৭ কেজি, ৮ কেজি ওজনের কদমার চাহিদা রয়েছে। এবছর আশা করছি ৮-৯ কুইন্ট্যাল কদমা বিক্রি হবে।” 

তবে প্রশ্ন মানকরের এই খ্যাতনামা মিষ্টন্ন শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে। প্রযুক্তির যুগে শিল্পটি বিলুপ্তির আশঙ্কা করছে অনেকে। কদমা কারিগর টুলু কর জানান, “৫ কেজি ওজনের একটা কদমা তৈরী করতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। চিনি গলানো থেকে কদমা তৈরী, এক টানা কাজ করতে হয়। মাঝপথে উঠে গেলে চিনির রস জমাট বেঁধে যাবে। কঠিন পরিশ্রম, মজুরি সেরকম পাওয়া যায় না। তাই কদমা কারিগরের কাজ কেউ করতে চায় না।” 

মানকরের বাসিন্দা সীতারাম গোস্বামী জানান, “বর্তমান প্রজন্ম কদমা তৈরী থেকে অনেকেই বিমুখ। পরিশ্রমের অনুপাতে মজুরি নেই। কারিগরের অভাব। তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সরকারের কাছে আবেদন, কদমা শিল্পকে বাঁচানোর জন্য কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোনও আর্থিক সহায়তা করা।”

গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কদমা শিল্পিদের পাশে অবশ্যই সরকার থাকবে। কদমা শিল্পের ক্লাস্টার তৈরীর চিন্তাভাবনা নেওয়া হচ্ছে।” 

 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here