সংজ্ঞা বদলে কলকাতায় কনটেনমেন্ট জোন ১৫০০ থেকে মাত্র কমে ১৮!

রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ জুলাই: আচমকাই কলকাতা থেকে যেন উধাও হয়ে গেল সমস্ত কনটেনমেন্ট জোন। বুলেটিনে কলকাতায় সারা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখালেও আচমকাই কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ১৫০০ থেকে কমে দাঁড়াল মাত্র ১৮। তাহলে কি জাদুবলে রাতারাতি উধাও হয়ে গেল করোনা সংক্রমণ? নতুন এই তথ্যে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন শহরবাসী।

জানা গিয়েছে, এর পিছনে রয়েছে পুরসভার নতুন সংজ্ঞা বদল। প্রসঙ্গত, রাজস্ব আদায় সহ অন্যান্য কাজকর্ম শুরুর লক্ষ্যে বারবারই কলকাতায় কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা কমাতে নতুন নীতি প্রয়োগ করেছে পুরসভা। এবার এর পিছনে রয়েছে আবার সেই নতুন নীতি প্রয়োগ। এই নীতি অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণ হলে কন্টেনমেন্ট জ়োনের বদলে সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা ফ্ল্যাট চিহ্নিত হবে ‘আইসোলেশন ইউনিট’ হিসেবে। কোনও রাস্তা, লেন বা গলিতে অনেকে সংক্রমিত হলে সেই রাস্তাটি বন্ধ করে কন্টেনমেন্ট জ়োন করা হবে। দু’-একটি করোনা সংক্রমণ হলে সংশ্লিষ্ট বাড়িটিকে আইসোলেশন ইউনিট বলা হবে। আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবন কাটাবেন।
সেই কারণেই কনটেন্টমেন্ট জোন রাতারাতি পাল্টে গিয়েছে আইসোলেশন ইউনিটে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহরে আইসোলেশন ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৭২। আর সোমবার পর্যন্ত কন্টেনমেন্ট জোন মাত্র ১৮।

আগে কি রকম ছিল কনটেনমেন্ট জোনের নিয়ম?
তখন প্রথমে এক জন করোনা রোগী মিললেই গ্রামীণ এলাকায় পুরো গ্রাম পঞ্চায়েত এবং শহরে পুরো ওয়ার্ডকে কন্টেনমেন্ট এলাকা ঘোষণা করা হত। তার বাইরে তিন কিলোমিটার পরিধির এলাকায় ছিল বাফার জ়োন। সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পরে গ্রামীণ এলাকায় একটি গ্রাম এবং শহরে লেন বা বাই লেন বন্ধ করে কন্টেনমেন্ট জ়োন তৈরি করা হচ্ছিল। সেই হিসেবেই কলকাতায় প্রায় ১৮০০ কন্টেনমেন্ট জ়োন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এখন কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডেই করোনা মিলেছে। আর করোনা সংক্রমণ যে খুব সহজে বিদায় নেবে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সারা কলকাতাকে আটকে রাখার কোন মানে হয় না, এমনটাই মত পুর আধিকারিকদের।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here