জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা ২৫০ পার করতে চলেছে, মত জাতীয় উদ্যানের বনকর্তাদের

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ২৩ সেপ্টেম্বর: জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে কমবেশি চার দশক পর গন্ডারের সংখ্যা ২৫০ পার করেছে, এমনটাই মনে করছেন জাতীয় উদ্যানের বনকর্তারা।২০১৯ সালের শেষে গণ্ডার সুমারিতে জলদাপাড়ায় ২৩৭টি গন্ডারের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। এই বছরের নভেম্বর মাস নাগাদ গোটা দেশের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও মেগা হার্ভিভোর সেন্সাস হবার কথা। বনকর্তাদের আশা তখন আবারও একবার গন্ডার সুমারির সুযোগ থাকবে। তাতেই একশৃঙ্গদের প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে। বুধবার বিশ্ব গন্ডার দিবস পালিত হয়েছে। আর সেদিনই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান নিয়ে এমন তথ্য সামনে আসায় উচ্ছ্বাসিত বনকর্মী থেকে বনাধিকারিকরা।

এদিকে কত হতে পারে একশৃঙ্গদের সংখ্যা? ২০২০ সালে এনথ্রাক্স জীবাণুর আক্রমনে একাধিক গন্ডারের মৃত্যু হয় জলদাপাড়ায়।২০১৯ সালের পর থেকে ইনফাইটিং রোগে ভুগে, নদীতে ভেসে গিয়ে, চোরাশিকারিদের হাতে পোচিং জনিত কারণে আরও কয়েকটি গন্ডারের মৃত্যু হয়। এত কিছুর পরেও জাতীয় উদ্যানে গন্ডারের সংখ্যা কমেনি। বনকর্তাদের অনুমান প্রায় ৩০০ ছুঁই ছুঁই করছে একশৃঙ্গরা।

উল্লেখ্য, গণ্ডার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের মধ্যেই জলদাপাড়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে। ১৯৮৪ সালে জলদাপাড়ায় গন্ডারের সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১৪টিতে। কার্যত বিলুপ্তির কিনারায় পৌছে গিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে থাকে বনদপ্তর।চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে স্থানীয় গ্রাম, বনবস্তিতে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করা হয়। গঠিত হয় এফপিসি, ইডিসি কমিটি। ২১৬ বর্গকিমি আয়তনের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের একটা বড় অংশ নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘাসবন। যার রক্ষণাবেক্ষণ চলে বছরভর। এছাড়াও জঙ্গলের ভেতর স্পর্শকাতর এলাকায় একের পর এক তৈরি হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।বছরভর চোরাশিকারিদের নজরে থাকে জলদাপাড়াত। ৮০টি কুনকি হাতি, সাথে বনদফতরের ৭টি রেঞ্জ থেকে বনকর্মীদের দল দিনরাত পালা করে জঙ্গল রক্ষার কাজ করছে। তারই ফলস্বরূপ জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গন্ডারের সংখ্যা আশাতীত ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট আয়তনের জঙ্গলে পুরুষ-স্ত্রী গন্ডারের অনুপাত, জঙ্গলের আয়তনে গন্ডারের সংখ্যা- দুটো বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক চর্চা চলছে।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও দীপক এম বলেন, শুধু ভারতবর্ষ নয় গোটা বিশ্বের সামনে জলদাপাড়া নজির তৈরি করেছে। আমরা নিশ্চিত, ২০১৯ সালে ২৩৭টি গন্ডারের অস্তিত্ব ছিল। তা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে ২০২১ এর মেগা হার্ভিভোর সেন্সাস হবার পর। কারণ গত তিনবছরে গন্ডার সংরক্ষণে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেই এগিয়েছি আমরা।” ডিএফও এও বলেন, “জাতীয় উদ্যান লাগোয়া ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের তল দিয়ে আন্ডারপাস তৈরির ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে পরিকল্পনামাফিক জঙ্গলের আয়তন বৃদ্ধি করা হবে। স্ত্রী-পুরুষ গন্ডারের অনুপাত, জঙ্গলের আয়তন অনুযায়ী সংখ্যা বৃদ্ধি আমাদের নজরে রয়েছে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here