অযোধ্যা পাহাড়ে শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে প্রস্তুত বনদফতর

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ মে: বুদ্ধ পূর্ণিমায় ‘শিকার উৎসব’ নয় বনদফতর চায় অযোধ্যা পাহাড়ে হোক ‘সেন্দরা পরব’। বন্য প্রাণ নিধন রুখতে কার্যত হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে উঠে পড়ে লেগেছে বনদফতর।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আদিবাসীদের চিরাচরিত শিকার করে উৎসব পালনের ধারায় পরিবর্তন আনতে চাইছে তারা। ঐতিহ্য মেনে অস্ত্র নিয়ে আদিবাসী মানুষের সমাবেশ ঘটুক অযোধ্যা পাহাড়ে। কিন্তু বন্যপ্রাণ ধরার ফাঁদ, জাল নিয়ে আসা যাবে না। এর জন্য আরপিএফ, জিআরপি, জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করছে বনদফতর। পুরুলিয়া বিভাগ, কংসাবতী উত্তর ও কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের আধিকারিক ছাড়াও ১৫০ জন কর্মী রবিবার থেকে অযোধ্যা পাহাড়ে নজর রাখবেন। রবিবার রাত থেকে জ্যোৎস্নার আলোয় সোমবার সকাল পর্যন্ত কিছু অসাধু শিকারি বন্য প্রাণীদের হত্যা করে। মূলত তাদের আটকাতেই কঠোর হচ্ছে বন দফতর।

বন্যপ্রাণ হত্যা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ায় কথা জানান পুরুলিয়া বনবিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক দেবাশীষ শর্মা। তিনি বলেন, করোনার জন্য গত দুই বছর এই উৎসবে অংশ নিতে পারেননি আদিবাসী মানুষজন। এবার এই রাজ্যের পুরুলিয়া ছাড়াও বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, দুই বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার আদিবাসী মানুষের সমাগম ঘটবে অযোধ্যা পাহাড়ে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, বিহার এমনকি ছত্রিশগড় রাজ্য থেকেও আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ উৎসবে সামিল হবেন। উৎসবে আমোদপ্রমোদ মনোরঞ্জন সংস্কৃতির উপস্থাপন করার জন্য সবরকম সহযোগিতা করছে প্রশাসন।”

বন্যপ্রাণ হত্যা নয় উৎসব হোক এই বার্তা বিভিন্ন ভাবে প্রচার করেছে বনদফতর। স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে দেওয়াল লিখন, লিফলেট বিতরণ করে শিকার বন্ধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছে বনদফতর। গত পনের দিন ধরে আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত গ্রামগুলিতে বিশেষভাবে এই প্রচার চালানো হয়েছে।

এবার অযোধ্যা পাহাড় ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে ২৫ থেকে ২৮ টি হাতি রয়েছে। বাঘমুন্ডি, মাঠা, খয়রাবেড়া, বামনি, খামার, আড়শার বনভূমিতে হাতিগুলি রয়েছে। স্থানীয় মানুষকে জঙ্গলে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। উৎসবে আসা বহিরাগতদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বন দফতর।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here