পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যা মেটাতে হবে ‘দুয়ারে সরকারের’ ধাঁচে শিবির

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যা মেটাতে এবার ‘দুয়ারে সরকারের’ ধাঁচে শিবির করার সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। এর ফলে সুবিধা হবে উদ্যোগপতিদের। এবার থেকে কোনও কিছুর ছাড়পত্র পাওয়া বা কোনো সুবিধা অসুবিধা জানানোর জন্য তাদের আর বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে হবে না। এক ছাদের নিচে সমস্ত দপ্তরকে একসঙ্গে পয়ে যাবেন তারা। আর সমস্ত দপ্তরকে নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে শিবির করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা শাসক আয়েশা রানি এ। জেলা শাসকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন উদ্যোগপতিরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রয়েছে একাধিক শিল্প তালুক। কয়েকদিন আগেই খড়গপুরে এসে টাটা মেটালিকের নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে খড়্গপুরে দ্বিতীয় প্ল্যান্ট চালু করেছে টাটারা। টাটা মেটালিকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সেদিনই বলেছিলেন, ‘মমতার হৃদয় শিল্পের কাছাকাছি রয়েছে।’ তবে শুধুমাত্র ভারি শিল্প নয়, পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার জন্য গত মাসেই উদ্যোগপতিদের নিয়ে ‘সিনার্জি’র আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন। সিনার্জিতে শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই প্রায় ২ হাজার ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেছে উদ্যোগপতিরা।

তবে সেখানেই না থেমে বেশি বিনিয়োগের আশায় খড়গপুরে ‘সিনার্জি ২.০’ বা ‘উদ্যোগ মিত্রে’র আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানেই জেলা শাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য যেমন দুয়ারে সরকার হয়, তেমনই শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যার সমাধানের জন্য দুয়ারে সরকারের ধাঁচে শিবির করার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের মুখ্য সচিব রাজেশ পাণ্ডে। সেই অনুযায়ী আমরা শিবির করার চিন্তাভাবনা নিয়েছি।

গত মাসে মেদিনীপুর শহরে যখন ‘সিনার্জি’র আসর বসে, তখনই নিজেদের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তারা। তারা জানিয়েছিলেন, শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয় তাদের। অনেক সময় দপ্তরের অধিকারিকরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, অনেক সময় আবার বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরানো হয়। উদ্যোগপতিদের এই সমস্যার কথা ভেবেই এই অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা শাসক জানান, বিভিন্ন কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ের মধ্যে উদ্যোগপতিদের সমস্যার সমাধান হয় না। তাই যে সমস্ত দপ্তরের সঙ্গে শিল্পের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, সেই সমস্ত দপ্তরকে নিয়ে আমরা শিবির করতে চাইছি। শিবির থেকেই আবেদন নেওয়া হবে, কোনও দপ্তরের শংসাপত্র লাগলে শিবির থেকেই তা দেওয়া হবে।

পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্সের সেক্রেটারি চন্দন বসু জেলা শাসকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বলেন, জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আগামীদিনে উদ্যোগপতিদের অনেক কাজে আসবে। একই ছাদের নিচে সমস্ত দপ্তরকে পেয়ে গেলে আমাদের আর অন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here