রেশন বন্টন ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা পেশ রাজ্যের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ জুন: রাজ্যের রেশন বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। এই নিয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলেছিল হাইকোর্ট। শুক্রবার রাজ্যের রেশন বন্টন ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে হলফনামা জমা দিলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল।

ওই হলফনামায় রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, রেশন দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। লকডাউনের সময় ধনী-গরিব কোনওরকম শ্রেণিবিভাজন না করে সকলকে সমান হারে চাল, গম বন্টন করা হয়েছে। যাদের ডিজিটাল কার্ড নেই, তাদের জন্যও কুপনের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য। এমনকি এ রাজ্যে আটকে পড়া ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক এবং এ রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকদেরও বিশেষ কুপনের মাধ্যমে রেশন দেওয়া হয়েছে।

জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৫ ধরনের ডিজিটাল কার্ডের ভিত্তিতে ৯.৯৫ কোটি ডিজিটাল কার্ড হোল্ডারদের রেশন দেওয়া হয়েছে। যাদের ডিজিটাল কার্ড নেই, এরকম ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৫ জনের জন্য কুপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মে মাস থেকে তিন মাস ধরে মাথা পিছু ৫ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালানো হবে।
এছাড়াও রেশন দুর্নীতি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। প্রচুর রেশন ডিলারকে শো কজ এবং বেশ কিছু রেশন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

তবে এই হলফনামায় অনেক গলদ রয়েছে বলে দাবি মামলাকারী আইনজীবীর। বিজেপির তরফে সপ্তর্ষি চৌধুরীর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় মামলাকারীর আইনজীবী তরুণ জ্যোতি তেওয়ারির দাবি, ডিজিটাল রেশন কার্ডের কাজ ১০০ শতাংশই শেষ হয়ে গিয়েছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছিল রাজ্য। তাহলে এই ৬৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৫ জনের কুপণ ইস্যু করতে হল কেন রাজ্যকে? তাঁর আরও প্রশ্ন, কেন্দ্র সরকার ৫ কেজি চাল দিয়েছে, রাজ্য ৭ কেজি করে চাল দিয়েছে বলে যদি মেনে নিতে হয়, তাহলে সবাই কি ১২ কেজি করে চাল পেয়েছে? রেশন নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছিল, তাতেও অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ জানাতে পারেননি বলেও অভিযোগ। পরবর্তী শুনানিতে মামলাকারীদের এই সমস্ত বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হয়েছে রাজ্যের কাছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here