করোনায় মৃতদের ফুলের সঙ্গে তুলনা করে থিম ভাবনা পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ায়

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৩ অক্টোবর: প্রাণ চলে যাওয়া মানব জীবনকে আবার ফিরিয়ে আনার আশা নিয়ে এবার থিম ভাবনা পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার ভামুরিয়া বাথানেশ্বর সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির। বিশ্ব মহামারী করোনা পরিস্থিতিকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরছে এই কমিটি। সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে মূর্তিও। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে মণ্ডপে প্রবেশের ক্ষেত্রে থাকবে একাধিক বিধিনিষেধ। থাকবে অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল। করোনা পরিস্থিতির কারণে পুজোর দিনগুলোতে বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আট জন শিল্পী প্রায় এক মাস ধরে এই মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছে নজরকাড়া শিল্পশৈলী। সহ শিল্পী বিরাজন কর্মকার বলেন, “একেবারে অভিনব কায়দায় এবছরের দুর্গাপুজোর থিম তৈরি হচ্ছে। আট জন দক্ষ শিল্পীর সাহায্যে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রায় এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে মণ্ডপ ও মূর্তি তৈরির কাজ। বাঁশ, কাঠ, কাগজ, থার্মোকল, বিভিন্ন আকারের রঙ, মাটি, কাঁচ সহ অন্য জিনিস ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে সুষ্ঠুভাবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মণ্ডপ ও মূর্তি দর্শন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
সাড়া জাগানো পুজো হয়ে থাকে এখানে। এবার এগারো বছরে পড়ল। এবার তাদের থিম “ঝরা ফুল রাশে রাশে, মা দুর্গা আশেপাশে”।

এই প্রসঙ্গে শিল্পীরা জানান, “করোনায় মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। সেই সব মানুষকে ফুলের সঙ্গে তুলনা করে মণ্ডপের একটা অংশে ঝরে যাওয়া ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে। অন্যদিকে মূল মণ্ডপে থাকবে সেই সব ঝরে যাওয়া ফুল মানব বন্ধন সৃষ্টি করে মা দুর্গার আশীর্বাদে ফিরে আসছে পৃথিবীতে।”

কমিটির সদস্য দেবাশিস সরকার বলেন, “এবছর খুবই অল্প বাজেট রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে সবরকম ব্যবস্থা থাকবে। মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব।  কোরোনা পরিস্থিতির জন্য এবছর কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না। বাজেট কমিয়ে এলাকার দু:স্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হবে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here