আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বললেন না উপাচার্য, নেমে এল বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, শান্তিনিকেতন, ৬ ডিসেম্বর: আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সাথে কথা বললেন না উপাচার্য, উল্টে পড়ুয়াদের উপর নেমে এল
নিরাপত্তারক্ষীদের আক্রমণ। মঙ্গলবার বিকেলে উপাচার্যর গাড়ির সামনে হাতজোড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিশ্বভারতী ইউনিটের সভাপতি বলেন, দয়া করে কথা বলুন। আমাদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেবেন না। কিন্তু সেকথায় কান না দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দিলেন পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগ করতে। ঘটনার জেরে গুরুতর আহত মীণাক্ষী ভট্টাচার্য।

ছাত্রের ভর্তি আটকানো, ছাত্রীর পিএইচিডি আটকানো, শিক্ষকদের মুচলেকা আদায়, একের পর এক সাসপেনশন, বেতন ও পেনশন আটকানো এমন বিস্তর অভিযোগ উপাচার্য বিদ‍্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। এমনকি আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন এমন গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেল চারটা নাগাদ উপচার্য বিদ‍্যুৎ চক্রবর্তী গাড়ি চড়ে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। আর ঠিক তখনই পড়ুয়াদের উপর দ্বিতীয়বার আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, প্রচন্ড শীতে বারো দিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীরা এগিয়ে এসে কথা বলতে চান। উপাচার্য গাড়ি থেকে না নেমে, গাড়ি পিছোতে বলে, নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া কিছু একটা নির্দেশ দেন। তখন রাস্তায় শুয়ে তাঁরই ছাত্র ছাত্রীরা। তারপরই মহিলা নিরাপত্তারক্ষীরা বিশ্বভারতীর তৃণমূল কংগ্রেস ইউনিটের সভাপতি মীণাক্ষী ভট্টাচার্যের উপর নেমে আসে আক্রমণ। তার চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে সরানো হয় ও তলপেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। আহত মীণাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, উপাচার্যর ভার্চুয়াল নির্দেশেই নিজেদের চাকরি বাঁচাতে তাঁরা আমাকে মেরেছে। আমি এখনো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারিনি। আমার চিকিৎসার প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, দুবছর আগে ২০ মে কুয়েট নিয়ে এই উপাচার্যর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এই রকম নোংরা মেয়ের(মীণাক্ষী ভট্টাচার্য) সাথে তিনি (উপাচার্য) কোনো কথা বলতে চান না। তারপর ড্রাইভারকে পড়ুয়াদের উপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। দুর্ঘটনা এড়াতে পড়ুয়ারা কোনক্রমে ছুটে প্রাণ বাঁচান। তার জেরে উপাচার্যর বিরুদ্ধে মীণাক্ষী ভট্টাচার্য শান্তিনিকেতন থানায় ইমেইল মারফৎ একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here