পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবসময় কেন্দ্রের প্রতি এক বিরূপ মনোভাব তৈরী করে জঘন্য চক্রান্ত করেছে, বললেন বিজেপি নেতা

আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ১৬ জুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবসময় কেন্দ্র সরকারের সাথে যুদ্ধ করতেই ব্যস্ত। কেন্দ্রের প্রতি এক বিরূপ মনোভাব তৈরী করে এক জঘন্য চক্রান্ত করছে রাজ্য সরকার। বামপন্থীরাও করেছিল এখন বর্তমান সরকারও করছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এভাবেই তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি রথীন বসু। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রথীনবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী সহ একাধিক জেলা নেতৃত্ব।

রথীনবাবু আরও অভিযোগ করে বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যকে যা যা বলেছে তার সবকটির বিরোধিতা করল রাজ্য সরকার। তার পরিণতি হল করোনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেল। সবদিক দিয়ে ফেল করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা নিয়ে মৃতদেহের যে তথ্য তাতেও কারচুপি করছেন। হাসপাতলগুলোতে চিকিৎসা ব্যাবস্থা একদম নেই বললেই চলে। তারপর বাধ্য হয়ে করোনা মোকাবিলায় যখন কেন্দ্রীয় টিম আসল রাজ্য তখনও তাদের কাজ করতে না দিয়ে টানা ১০দিন তাদের বসিয়ে রাখা হল। কেন্দ্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব করা হচ্ছে। বাইরে যে শ্রমিকরা কাজ করতে যায় সেই তথ্য নেই রাজ্য সরকারের কাছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ চিকিৎসা ব্যবস্থায় জলে পড়ে রয়েছে। এই রাজ্য সরকার শুধু রাজনীতি করে যাচ্ছেন। কৃষকদের জন্য কেন্দ্রের প্রকল্প চালু করা হয়নি। আয়ুস্মান ভারত যোজনা করতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পাঁচ লক্ষ টাকা পেত। ২০২১ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসলে পরের দিনই আয়ুস্মান যোজনা প্রকল্প চালু করা হবে।”

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বাংলা এখন গোটা ভারতবর্ষে শ্রমিক সাপ্লায়ার। এটা আমাদের গর্বের বিষয় নয়, এটা আমাদের কাছে খবুই দুঃখের বিষয়। এটা হয়েছে ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং পরবর্তীতে মমতা সরকারের অপদার্থতার জন্য। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর কি কি কাজ করেছে তা বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি নিয়ে আমাদের কর্মীরা আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই চিঠির প্রতিলিপি তুলে ধরবেন।”

জলপাইগুড়ি সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেন, “করোনা মোকাবিলায় কাজ করতে গেলে রাজ্য সরকারের পুলিশ আমাকে আটকে রেখে দিল। কোনও কাজ করতে দেওয়া হল না। যেখানে যাচ্ছি সেখানে সমাজসেবা মূলক কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যে গাড়িতে যাচ্ছি সেই গাড়ির নামে কেস দেওয়া হচ্ছে। সাইকেল নিয়ে যেতে চাইলাম সাইকেল আটকে দিল। এই হল রাজ্যের অবস্থা।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here