সময় কম! গোটা দেশবাসীর টিকা করণের আগেই তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা

আমাদের ভারত, ৫ জুন:
কোভিড বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে যদি নুন্যতম গা-ছাড়া ভাব দেখায় মানুষ তাহলে দেশে যেকোনো সময় করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সাবধান করলেন নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ পল। তিনি বলেন, কোভিড বিধি মানা ছাড়াও ভবিষ্যতে সংক্রমণ মোকাবিলায় একমাত্র ভরসা টিকাকরণ। কিন্তু গোটা দেশবাসীকে টিকাকরণের আওতায় আনতে যে সময় প্রয়োজন তার আগেই তৃতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ওই সময় ভাইরাসের চরিত্র কতটা পরিবর্তিত হবে? কোন স্ট্রেন নিজের চরিত্র পাল্টে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পেছনে রয়েছে ডেল্টা স্ট্রেন। এমনটাই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সমীক্ষার পর। ডেল্টা স্ট্রেন প্রথম ভারতেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এটিকে উদ্বেগজনক প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গবেষণার রিপোর্ট বলছে, ব্রিটেনের কেন্টে আলফা নামে যে প্রজাতি পাওয়া গিয়েছিল সংক্রমণের প্রশ্নের ডেল্টা তার থেকে ৫০ গুণ শক্তিশালী।

গবেষণা অনুযায়ী ডেল্টা মহারাষ্ট্রের অমরাবতী এলাকায় প্রথম পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাট, তেলেঙ্গানার মতো বহু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় যে রাজ্যগুলিতে ডেল্টা স্ট্রেনের উপস্থিতি মিলেছে সেখানেই সংক্রমণের ছবি আশঙ্কাজনক। তবে, এই স্ট্রেনের কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ল্যানসেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ফাইজারের টিকার দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান বেশি হলে ডেল্টা ট্রেনের বিরুদ্ধে তা কার্যকরী হচ্ছে না। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রায় দুই মাসেরও বেশি তান্ডব চালিয়ে এবার সংক্রমনের সূচক নামতে শুরু করেছে। কিন্তু কখন কোন স্ট্রেন চরিত্র পাল্টে সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউ তুলতে পারে তা সঠিক করে কেউই বলতে পারছে না। তাই দেশের বড় সংখ্যক মানুষকে দ্রুত টিকাকরণের আওতায় আনতে চাইছে কেন্দ্র।

একইসঙ্গে কোভিড সর্তকতা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন নীতি আয়োগ। বিনোদ পল বলেন, দেশের সব মানুষকে টিকা দিতে হলে সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময়ই আমাদের হাতে অল্প রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জানিয়েছে, সরকার চলতি বছরের মধ্যেই দেশবাসীকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত টিকাদানের হার অনুযায়ী বলা যাচ্ছে না যে খুব সহজেই সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এদিকে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে তৃতীয় ঢেউ শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভারতেও তৃতীয় ঢেউ যে কোনো দিন শুরু হয়ে যেতে পারে। ফলে সময় কম। তাই টিকাকরণ অভিযানের গতি প্রকৃতি নিয়ে আজ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্র ও রাজ্যের হাতে কত পরিমাণ টিকা রয়েছে, কত টিকা জুন-জুলাই মাসে রাজ্যগুলির কাছে পৌঁছানো যেতে পারে তা জানানো হয়। বিদেশ থেকে কত টিকা আসতে পারে তার একটি হিসেবেও জানানো হয়।

টিকাকরণ অভিযানকে কিভাবে আরো প্রযুক্তিবান্ধব করে তোলা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। টিকা যাতে নষ্ট না হয় তার দিকেও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যগুলি যাতে চাহিদামত টিকা পায় এবং দ্বিতীয় ডোজ পেতে মানুষের সমস্যা না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here