এবার বেসুরো দীপ্তাংশু, ফেসবুকে পুরনো দলের ছবি পোস্ট, ভাবনীপুরে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে টুইটারে প্রশ্ন, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে 

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১২ সেপ্টম্বর: এবার বেসুরো দুর্গাপুর থেকে দাঁড়ানো বিজেপি প্রার্থী কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী। ভবানীপুরে বিজেপির অবাঙ্গালি প্রার্থী নিয়ে টুইটারে পরোক্ষে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ফেসবুকে পুরনো দলের স্মৃতি রোমন্থন পোস্ট নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আবারও তিনি তৃণমূলে ফিরছেন?

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সামরিক বাহিনীর কার্গিল বিজয়ী প্রথমবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী। অল্প ভোটে পরাজয় হয় সেবার, কারণ সময় পেয়েছিলেন মাত্র বারো দিন। পর্বর্তীকালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এবং মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলের উপদেষ্টা, এসবিএসটিসির চেয়ারম্যানের এবং পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার অবজারভার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর তদবিরে পুনরায় বিজেপিতে ফিরে আসেন, যদিও প্রথমে তিনি বেঁকে বসেছিলেন আসবেন না বলে। কিন্তু পরে বিজেপিতে যোগ দেয় এবং দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। 

নির্বাচনে তার প্রচারে রাজ্য ও প্রদেশের হাইপ্রোফাইল নেতৃত্ব সেভাবে কেউ প্রচারে আসেনি বলে অভিযোগ। তবুও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত অল্প কিছু ভোটে পরাজিত হন তিনি। ফলাফলের পর রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্ত হওয়া কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের উদ্যোগে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করেছিলেন।সম্প্রতি নির্বাচনের পর দলের কর্মসূচিতে সেভাবে আর দেখা যায়নি। যদিও রাজ্যে সংগঠনের উচ্চপদের জন্য কেন্দ্রের নেতৃত্ব ডেকেছিলেন। তবে সেটা তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন। সম্প্রতি কলকাতার ভাবানীপুর আসনে উপনির্বাচন। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা টিব্রুয়াল। ভাবানীপুরের মত আসনে যেখানে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান, সেখানে এক অবাঙ্গালিকে প্রার্থী করায় পরোক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী এক টুইটে পরোক্ষে জোরালো প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, “ভবানীপুর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মস্থান। দলের প্রতিষ্ঠাতা। দলের পোষ্টারবয়। একইসঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের জন্মস্থান। সেখানে তাঁদের পরিবারের কেউ প্রার্থী পাওয়া গেল না? তাঁদের পরিবার কি বিজেপি কে প্রত্যাখান করেছেন?” তিনি আরও লিখেছেন, “রাজনীতিতে এটা ঐতিহাসিক ভুল। বাংলা ও বাঙ্গালিকে দূরে সরিয়ে যারা বাংলা ভাগের কথা বলে, জাতপাত নিয়ে রাজনীতি করে সেই দল গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। কোনও বাঙালি বাঙ্গালির
আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান যাদের পায়ের নীচে মুড়িয়ে দিতে চায়, তারা রাজনীতিতে বেশী দূর এগোতে পারবে না।”

আবার তিনি ফেসবুকে তৃণমূলের থাকাকালিন অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে এক অনুষ্ঠানের পুরনো ছবি স্মৃতি রোমন্থন করে পোষ্ট করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁর এই বেসুরো মন্তব্য ও ফেসবুকে পুরনো ছবি পোষ্ট নিয়ে রীতিমতো জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তিনি আবারও পুরোনো দলে ফিরছেন? ওনার আজও বহু তৃণমূল কর্মী পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ার সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। সেবিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও দীপ্তাংশুবাবু মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সংগ্রাম জীবনি টেনে বলেন, “দিদির প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক সংগ্রাম জীবনী ভারতে অদ্বিতীয়। সেটা আমি পাথেয় করে চলি।”

দীপ্তাংশু চৌধুরীর তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য ভি শিবদাসন দাসু বলেন, “তৃণমূলকে সর্বনাশ করেছিল। ওরা দল ছাড়ার পর আসানসোলে ৬ টা বিধানসভায় তৃণমূলের জেতা সম্ভব হয়েছে। দলে আবারও তাদের ফেরানোর বিষয় শীর্ষ নেতৃত্ব দেখবে।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “তারা দলের নেতা নন, প্রার্থী হয়েছিলেন। কখন পার্টিতে এলেন। কোনদিন দেখাও হয়নি।” 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here