অটোকে টেক্কা দিতে এবার নতুন ছক বাসমালিকদের! ন্যূনতম ১৪ টাকা, ৫ টাকা/কিমি বৃদ্ধির নয়া প্রস্তাব পেশ

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ মে: এ যেন চলছে স্নায়ুর লড়াই। প্রথমে দুমাস ধরে বাস বসে থাকার কারণে প্রথম ৪ কিমিতে ন্যূনতম ২০ টাকা ভাড়া এবং তারপর প্রতি ৪ কিমি তে ৫ টাকা করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাস মালিকরা। তাদের যুক্তি ছিল দুমাস ধরে বাস বসে থাকার কারণে ব্যাটারি, টায়ার অনেক কিছুর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু টানা দু’মাস ধরে লকডাউনে ঘরে বসে থাকা মানুষজন এতে প্রমাদ গুনেছিলেন। পরে অবশ্য পরিবহণ দফতরের তরফে সেই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়।

এবার ২৭ মে থেকে পুরনো ভাড়াতেই ২ জন যাত্রী নিয়ে অটো চলাচল শুরু হতে এবার পাল্টা চাপের মুখে বাসমালিকরা। তাই সুর কিছুটা নরম করে এবার ২০ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের ভাড়া ১৪ টাকার নতুন প্রস্তাব পেশ করলেন বাস মালিকরা। বৃহস্পতিবার এই নতুন ভাড়ার তালিকা রাজ্য পরিবহণ দফতরের হাতে তুলে দেন জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের কর্তারা। তবে এই ভাড়ার তালিকায় সরকার স্বীকৃতি দেবে কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি।

নতুন প্রস্তাব অনুসারে, বেসরকারি বাসের ন্যূনতম ভাড়া হবে ১৪ টাকা। যা বর্তমান ন্যূনতম ভাড়ার দ্বিগুণ। ওই ভাড়ায় ২ কিলোমিটার যাওয়া যাবে। তার পর প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে ৫ টাকা করে।

এর আগে বাসের ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকার পুরনো হিসেব ও ৫ কিলোমিটার দূরত্ব যেতে খরচ হত ৩০ টাকা। এই হিসাব অনুসারে ৫ কিলোমিটার যেতে ভাড়া দিতে হবে ৩৫ টাকা। অর্থাৎ ন্যূনতম ভাড়া কমলেও আসলে বেশি দূরত্বে খরচ হবে বেশি। যাত্রীরা বলছেন, প্রাথমিক মুনাফা কম দেখিয়ে অংকের হিসাব ঘুরিয়ে আসলে আগের থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করার চেষ্টা করছেন বাস মালিকরা। লোকে বেশি দূরত্বে যাওয়ার জন্যই বাসে ওঠে। তাই নিজেদের খরচ পোষাতে এই নয়া পরিকল্পনা। বাস মালিকদের দাবি, আমাদের তো সরকারের তরফে কোন আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে আমাদের ক্ষতি আমরা কিভাবে সামলাব? এতগুলি বাস এত জন কর্মী সবকিছু তো পকেট থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। হয় সরকার ভাড়া বাড়াক, নয়তো আমাদের জন্য কিছু চিন্তা করুক। না হলে আমাদের রাস্তায় বাস নামিয়ে বিপদে পড়তে হবে।

যাত্রীদের দাবি, বাস মালিকদের এটা বোঝা উচিত যে, গণপরিবহণ অতি সচ্ছল যাত্রীরা ব্যবহার করেন না। এটা ব্যবহার করেন গরিব নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তরাই। লকডাউনের পর এত টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে কিভাবে বাসে যাতায়াত করবে মানুষ? তার তুলনায় শহরজুড়ে যদি অটো চালু হয়ে যায়, লোকের পথ ভেঙ্গে ভেঙ্গে গেলেও খরচ কম হবে। রাজ্য সরকার যেখানে আগের দাবিতেই সম্মতি দেননি, সেখানে এই দাবিতে কিভাবে শিলমোহর পাওয়ার আশা করছেন, তা একমাত্র জানেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারাই।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here