একুশের লক্ষ্যে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক! এবার রাজ্যস্তরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও নুসরত জাহান

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ জুলাই: কথায় বলে রাজনীতিতে কোনও কিছুই অনিত্য নয়। তাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সমালোচকও হয়ে উঠতে পারে প্রশাসনের প্রিয়পাত্র। পেশায় সাংবাদিক তথা সারদা মিডিয়ার তৎকালীন সিইও কুণাল ঘোষ সারদা কেলেঙ্কারির অভিযোগের দায়ে দীর্ঘদিন জেলে থেকে সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাবর সমালোচনা করে গিয়েছেন, আদালতে যার বক্তব্য থেকে কার্যকলাপের ঘটনায় রীতিমতো শিহরণ জেগে উঠত সংবাদমাধ্যমে, তাঁকেই ৭ বছর পর রাজ্যস্তরের মুখপাত্র পদে নিয়ে এলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচককেই ফের ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী যেন আবার প্রমাণ করলেন, রাজনীতির রকমফের তাঁর থেকে ভাল এ রাজ্যে আর কেউ বোঝে না।

অথচ এর আগেও কুণাল ঘোষ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র। সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর কুণাল ঘোষ গ্রেফতার হন এবং বদলে যায় সম্পূর্ণ চিত্রটাই। জেল বন্দি থাকাকালীন কুণাল কখনও অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সারদা কাণ্ডে সরাসরি যুক্ত, আবার কখনও বলেছেন, ডেলোর বৈঠকে সারদাকর্তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার কখনও বলেছেন, সারদা কাণ্ডে যদি কেউ উপকৃত হয়ে থাকেন, তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু একটা সময় পর আইন মেনে কুণাল ঘোষ জামিন পান। তারপর দীর্ঘদিন ছিলেন অন্তরালে। কয়েকদিন আগেই একুশের লক্ষ্যে সাংগঠনিক রদবদল করে তাক লাগিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য কমিটিতে প্রাক্তন মাও নেতা ছত্রধর মাহাতো এবং সম্পাদক পদে বহিষ্কৃত সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে আসেন তিনি। এবার রাজ্যস্তরের মুখপাত্র মণ্ডলীতেও চমকে ঢুকে পড়লেন কুণাল ঘোষ। একই সঙ্গে অভিনেত্রী নুসরত জাহানকেও রাজ্যস্তরের মুখপাত্র পদে অন্তর্ভুক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে ২০১৩ সালে জুলাই মাসেই ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড হয়েছিলেন কুণাল। ফলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনঘটল ৭ বছর পর। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ২০১৯ থেকে দলের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি করছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ সমাবেশ কর্মসূচিতেও ছিলেন। তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর এবার রাজ্যস্তরের মুখপাত্রও হলেন।

একই সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ল অভিনেত্রী-সাংসদ নুসরত জাহানের। বিভিন্ন কারণে লোকসভা ভোটের পর থেকেই সবসময় শিরোনামে থেকেছেন তিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের কার্যকলাপ, উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা, বিরোধীদের পালটা জবাব দেওয়ায় তাকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে নুসরাতের বন্ধু তথা যাদবপুরের সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী তার এলাকায় ভালো কাজ করলেও তিনি থেকে গিয়েছেন কিছুটা প্রচারের আড়ালে। তাই সরকারের মুখরক্ষার পুরস্কার হিসাবে তাঁর নাম রাজ্যস্তরের মুখপাত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের তরফে রাজ্যস্তরে ২২ জন ও কেন্দ্রীয় স্তরে ১২ জন মুখপাত্রের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে বড় চমক এই দুজনই।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here