লাদাখ দিয়ে শুরু, চিনের টার্গেট হাতের পাঁচ আঙ্গুল, ভারতকে সতর্ক করল তিব্বতের প্রধান

আমাদের ভারত, ১৯ জুন: ১৫ জুন থেকে ভারত-চিন লাদাখ সীমান্তে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর দু’দেশের মধ্যে এই সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হয়েছে। উপগ্রহ চিত্রের প্রকাশ্যে এসেছে কিভাবে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যাকার দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চিন। ভারত ও ড্রাগনের দেশের মধ্যে এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে এবার লাদাখ দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চিন বলে ধারণা অনেকের। আর চিনের এই আগ্রাসী মনোভাব সম্পর্কে ভারতকে আগে থেকেই সতর্ক করলো তিব্বত।

সেন্ট্রাল তিব্বত অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রেসিডেন্ট লোবসাং সাঙ্গে জানিয়েছেন এটি চিনের একটি বড় মাস্টারপ্ল্যানের একটিমাত্র অংশ। শুধুমাত্র লাদাখ নয় চিন এবার গোটা হাত দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

আর লাদাখ সেই হাতের মাত্র একটি আঙ্গুল। চিন আসলে ফাইভ ফিঙ্গার স্ট্রাটেজি মেনে নিজের কাজ কর্ম করে। তার একটি ক্ষুদ্র অংশই হল লাদাখ। চিনের পাঁচ আঙুলের যুদ্ধনীতি চালু করেছিলেন পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং। লোবসাং বলেছেন চিন যখন তিব্বত দখল করেছিল তখন মাওসেতুং সহ চিনের অন্য নেতারা মনে করতেন তিব্বত হল হাতের তালু। যা দখল করতেই হতো চিনকে। এরপর বাকি পাঁচটা আঙ্গুল দখল করা।

এভাবেই চিন তার নিজের অধিকারের সীমা বাড়াবে। পাঁচ আঙ্গুলের প্রথমটি হলো লাদাখ বাকি চারটি হলে নেপাল, ভুটান, সিকিম, অরুণাচলপ্রদেশ। ১৯৬২ সালে ভারত চিন লাদাখ সীমান্তে বড় যুদ্ধ হয়েছিল। তারপর থেকে গালওয়ান উপত্যকায় এবারেই সবচেয়ে বড়সড় হানা দিয়েছে চিনা সেনা। এখনোও গালওয়ান উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে চিনা ফৌজ।

বারবার মুখে তারা আলোচনা চাইলেও ভূখণ্ড দখল করার চেষ্টা কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে। লোবসাং বলেন ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘর্ষও কিন্তু ওই পাঁচ আঙ্গুল নীতির অন্তগর্ত ছিল।

এই বিষয়ে তিব্বতি নেতারা গত ৬০ বছর ধরে ভারতকে সতর্ক করেছে। সীমানা বাড়াতে লাদাখের পর চিনের অন্যতম টার্গেট নেপাল, ভুটান, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ। লোবসাং-এর মতে চিন তিব্বতের সঙ্গে যা করেছে তার থেকে ভারতের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here